ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা বাটিক ব্যবসায়ীরা

মোবাশ্বির শ্রাবণ | প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ১০ জুন ২০২২

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সবকিছুরই দাম বেড়েই চলছে। থেমে নেই বাটিক তৈরির পণ্য সামগ্রীর দামও। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে রঙ, কেমিকেল, সোডা ও মোমের দাম। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাটিক ব্যবসায়ীরা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের বান্টি গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, সাদা কাপড়ে বিভিন্ন রকমের নকশা করছেন শ্রমিকরা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাপড়ে রঙ দিচ্ছেন, কেউ ব্লক করছেন, আবার কেউ ভেজা কাপড় রোদে শুকাচ্ছেন। কেউ কেউ কাপড় ভাঁজ করছেন। এ গ্রামের মানুষজন পারিবারিক ভাবে এ কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রায় প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে বাটিক পণ্য তৈরি হয়। কেউ ছোট কারখানা গড়ে তুলে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে কাজ করছেন।

ওই গ্রামের চারদিকে দেখা মিলে রঙ-বেরঙের কাপড়। রাস্তায়, বাড়ির উঠান, ভবনের ছাদ বা খোলা ময়দানে বাটিকের নকশা করা ওড়না, সালোয়ার, কামিজ, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার শোভা পাচ্ছে। ফলে গ্রামটি বাটিকের গ্রাম বলেই পরিচিত। তবে বাটিকানদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

jagonews24

মো. আলী মিয়া নামের এক বাটিক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা শাড়ি কাপড়ে বাটিক করে থাকি। এখন বাটিক কাপড়ে গজপ্রতি ২ টাকা আয় করাও অনেক কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে এখানে আমরা ১২ জন লোক কাজ করতাম। এখন মাত্র ৩ জন কাজ করি। এ কাজে এখন আগের মতো লাভ হয় না। ফলে মানুষ বাটিকের কাজ করতে চান না।

শাহীন নামের আরেক বাটিক ব্যবসায়ী বলেন, বাটিক পণ্য তৈরি করতে আমাদের গোলাপি, কমলা, হলুদ, লাল, বেগুনি, বাইলেন ও কালো কালারের রঙের বেশি প্রয়োজন হয়। আর এ কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩০০-৩৫০ টাকা হয়েছে। কিন্তু আমরা একটা কাপড় রঙ করে কত টাকা লাভ করতে পারি? এখন বাটিক পণ্যে পুষিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে গেছে।

আহাদ ডাইংয়ের মালিক হিমেল বলেন, আগে ৫০ কেজি সোডার দাম ছিল এক হাজার ৮০০ টাকা। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে মোম ৫০ কেজিতে ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১৩ হাজার টাকা হয়েছে। সে সঙ্গে প্রত্যেক রঙের দাম ৫০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। গোলাপি রঙের দাম ৪৫০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা কেজি হয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বেড়েই চলছে।

jagonews24

আজিজুল ডাইংয়ের মালিক আজিজুল বলেন, বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে ব্যবসা ধরে রাখাটা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আর কোনো লাভের মুখ দেখি না। বাপ-দাদার এ ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আর পারবো না।

সুমাইয়া ডাইংয়ের মালিক সাইফুল ইসলাম শান্ত বলেন, কাপড়-রঙের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রত্যেকটি জিনিসেরই দাম দ্বিগুণ হারে বাড়তে শুরু করছে। যার কারণে বাটিক ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, এটাতো কুটির শিল্প। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে তেমন কিছু করার থাকে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যান হিসেবে তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকি। দাম বৃদ্ধির কারণে কাপড়ের পুরো ব্যবসাটাই খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

jagonews24

এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আসলে এ ব্যবসাটা তাদের ব্যক্তিগত। তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জড়িত থাকে। তারপরও তারা যখন আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যোগাযোগ করে তখন সহযোগিতা করে থাকি।

আরএইচ/এএসএম