ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দাম কমলেও নাগালে আসেনি চাঁদপুরের ইলিশ

জেলা প্রতিনিধি | চাঁদপুর | প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২১ জুন ২০২২

জাটকা রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও দীর্ঘ দেড় মাস নদীতে আশানুরূপ ইলিশ পাননি চাঁদপুরের জেলেরা। তবে কয়েকদিন ধরে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাটে বৃদ্ধি পেয়েছে ইলিশের আমদানি। এতে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে জেলে ও আড়তদারদের মুখে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে মাছ ঘাটে।

এদিকে আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি বলে দাবি করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় এখনো তেমন আমদানি নেই ইলিশের। তবে এভাবে আমদানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে বলে দাবি আড়তদারদের।

সরেজমিনে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে দেখা যায়, বড় বড় স্তূপে সাজানো রয়েছে ইলিশ। ঘাটে ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ হাঁকডাকে চলছে বেচাকেনা। ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকদিন ধরে তিনশো থেকে পাঁচশো মণ ইলিশ আসছে ঘাটে। তবে ঘাটে আসা সব ইলিশ চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার নয়। কিছু ইলিশ এসেছে সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও ভোলা থেকেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ১৫ দিন আগের চেয়ে ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে তা এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। ঘাটে ইলিশের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে সে তুলনায় এখনো মাছের আমদানি হয়নি। তাই এখনো দাম চড়া।

jagonews24

চাঁদপুর মাছঘাটের ক্ষুদ্র আড়তদার নবীর হোসেন জানান, ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি সাইজের ইলিশের কেজি এখন ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ১ কেজি থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, দেড় কেজির ওপর ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। দুই কেজি ওজনের ইলিশের কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, গত ১৫ দিন আগের তুলনায় কেজিতে ইলিশের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে।

আড়তদার শামীম সরকার বলেন, চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী মাছ না থাকায় দাম এখনো বেশি। সে কারণে পাইকাররা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে ঘাটে ইলিশের আমদানি বাড়লে মাছের দাম আরও কিছুটা কমবে।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেও ঘাটে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ আসতো। এখন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ মণ আসছে। তাই আমদানি বৃদ্ধি পেলেই দাম কমবে।

মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা সেন্টু বলেন, শুনেছি ঘাটে নাকি ইলিশ আসতে শুরু করেছে। ভাবলাম এবার দাম কিছুটা কম হবে। তাই এসেছি মাছ কেনার জন্য। তবে এসে দেখি মাছের দাম এখনো অনেক বেশি। মনে হয় ইলিশ কেনা হবে না আজ।

কচুয়া উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা জয়নাল খান বলেন, কচুয়া থেকে ঘাটে এসেছি ইলিশ কেনার জন্য। দামের কারণে পাঙ্গাশ মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। যে দাম তাতে আমার পক্ষে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। দেখি কিছুদিন পর যদি দাম কমে তাহলে আবার আসবো।

jagonews24

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি শবেবরাত সরকার বলেন, চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা ব্যাপক। সুস্বাদু মাছ হওয়ায় সারাদেশ তাকিয়ে থাকে চাঁদপুরের ইলিশের দিকে। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ আসছে তা চাহিদার চার ভাগের এক ভাগও নয়। তারপরও গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে একটু আমদানি বেড়েছে। তবে চাঁদপুরের নদীতে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এভাবে ইলিশ পেলে অদূর ভবিষ্যতে জেলেরা এই পেশায় থাকবে কি না তা নিয়েই সন্দেহ। কারণ তারা জ্বালানি ও আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়ে যে ইলিশ পান তাতে কোনোভাবেই পোষায় না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি মানিক জমাদার বলেন, আমাদের ইলিশের মৌসুম এখন শুরু হয়েছে। আসলে এখনো মাছের দাম কমেনি। কারণ চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে এবং জেলেদের জ্বালানি তেলের দামও বেশি। সবমিলিয়ে খরচ বেড়েছে। তাই ইলিশের দামও বেশি।

তিনি বলেন, দাম কমতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে দাম আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নজরুল ইসলাম আতিক/এমআরআর/এমএস