ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মির্জাপুরে ভাড়া দোকানে দেওয়া হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) | প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাড়া করা দুটি দোকান ঘরে চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এ উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল ও সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় চানু মার্কেট ও আবুল মার্কেটে ভাড়া করা দোকানে দেওয়া হচ্ছে সেবা।

সম্প্রতি সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের দুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক দুটির নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে বাঁশতৈল ইউনিয়নের চানু মার্কেট এলাকায় গায়রাবেতিল ও আবুল মার্কেট এলাকায় সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক দুটি নির্মাণ করা হয়।

Mirzapur-1

এরই মধ্যে ক্লিনিক দুটির দেওয়াল ফেটে গেছে। ছাদ দেবে প্লাস্টার খসে পড়ছে। দরজা-জানালাও ভাঙা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এতে খাতাপত্র, ওষুধ ও আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে ক্লিনিক দুটির পরিচালনা কমিটি চানু মার্কেট ও আবুল মার্কেটে পৃথক দুটি দোকান ঘর ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়া দোকান ঘরে রোগীদের কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা দেওয়া হচ্ছে। জরাজীর্ণ ক্লিনিক দুটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গায়রাবেতিল কমিউনিটি ক্লিনিকে আলমাছ হোসেন ও সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ফয়সাল আহমেদ কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা জানান, গায়রাবেতিল ক্লিনিকে প্রতিদিন ৭০/৮০ রোগী দুই টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া একই ওয়ার্ডের সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ২৫/৩০ জন রোগী প্রতিদিন দুই টাকা দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। ওই টাকায় বিদ্যুৎ বিল, ঘর ভাড়া ও আয়ার বেতন দেওয়া হয়। বাড়তি টাকা থাকলে তা কমিটির কাছে জমা রাখা হয় বলে সিএইচসিপিরা জানিয়েছেন।

গায়রাবেতিল গ্রামের ফুলমালা রানী বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে ওষুধ নিতে আসি। ডাক্তার আমাগো না করে না।

Mirzapur-1

৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রশিদ শিকদার বলেন, গায়রাবেতিল ও সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন দুটির অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ভেতরের সব নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

গায়রাবেতিল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আলমাছ হোসেন বলেন, ক্লিনিকের ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ। ছাদ দেবে প্লাস্টার খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। পরিচালনা কমিটি আপাতত এই দোকান ঘর ভাড়া করে দিয়েছেন। এখান থেকেই এলাকার জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কমিটির সিদ্ধান্তে ভাড়া দোকানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

Mirzapur-1

রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, ওই টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, ঘর ভাড়া ও আয়ার বেতন দেওয়া হয়। বাড়তি টাকা থাকলে কমিটির কাছে জমা রাখা হয়।

গায়রাবেতিল ও সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সাদেক মিয়া বলেন, গ্রামের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দুটি দোকান ঘর ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের কাছে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, গায়রাবেতিল ও সোনালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকসহ জরাজীর্ণ ১০টি ক্লিনিকের নামের তালিকা গত ২৭ জুলাই স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

বর্তমানে ভাড়া করা দোকান ঘরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এস এম এরশাদ/এমআরআর/এমএস