ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অনাবৃষ্টিতে খেত ফেটে চৌচির, ফসল নিয়ে চিন্তায় চাষিরা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) | প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে রোপা আমন খেত ভেটে চৌচির হচ্ছে। এতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে আবাদ করা আমন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষকের রোপণ করা ধানের চারা খরায় হলদে হয়ে মরার উপক্রম হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে এবার পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর ও গোড়ই এবং লতিফপুর ইউনিয়নে রোপা আমনের চাষ বেশি হয়ে থাকে। চলতি বছর ব্রি ৭৫, ব্রি ৮৭, ব্রি ৪৯, ব্রি ৭১, বিনা ধান ৭, বিনা ধান ১৭, রঞ্জিতশাইল ও ধানী গোল্ড জাতের ধান আবাদ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রকৃতি প্রদত্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল এই রোপা আমন আবাদ আষাঢ়ের মধ্যভাগ থেকে হয়। যা শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর আষাঢ়ের প্রথম দিকে দু’একদিন সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তারপর এ উপজেলায় আর বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এতে চলতি মৌসুমে অনেকটা আমন আবাদের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

Mirzapur-4

তবে প্রচণ্ড খরা পার করে অবশেষে শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসে। গত ২৭ জুলাই থেকে এ উপজেলায় ৪/৫ দিন মুশলধারে বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টির পানি পেয়েই পাহাড়ি অঞ্চলে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। তবে ধান রোপণের পর আবার ফের খরা দেখা দিলে কৃষকরা বিপাকে পড়েন।

উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকের ধানের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকে আবার ধান বাঁচাতে নলকূপের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। তবে প্রচণ্ড খরার কারণে জমিতে পানি বেশি সময় স্থায়ী হচ্ছে না। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দিতে গিয়েও কৃষককে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কৃষকের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ।

Mirzapur-4

বাঁশতৈল এলাকার কৃষক ইয়াকুব আলী, ছিট মামুদপুর এলাকার আছান মিয়া, সাদেক মিয়া, চিতেশ্বরী এলাকার মোহাম্মদ আলী ও শহিদুর রহমানসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তারা রোপা আমন আবাদের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে দেরিতে বৃষ্টি হলেও কৃষক তাদের জমি পতিত না রেখে ধান রোপণ করেন। কিন্তু এর পর আবার প্রচণ্ড খরায় আবাদ করা জমি ফেটে চৌচির হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই জমিতে সেচ দিলেও খরায় বেশি সময় পানি থাকছে না।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টি হয়ে জমিতে পানি জমায় তরিঘড়ি করে ধান লাগিয়েছেন। এরপর আর বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টি না হলে চারা মরে যাবে।

একই গ্রামের মমতাজ বেগম জানান, তিনি ১৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করছেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টি না হলে ধানের চারা মরে যাবে। এতে তার অনেক লোকসান হবে।

Mirzapur-4

একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতি একর জমি আবাদ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারা বলেন, হালের খরচ বেশি, ধানের চারার দাম বেশি, সারের দাম বেশি এবং শ্রমিকের খরচও বেশি। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের খরায় জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হচ্ছে। পানি না থাকায় ধানের চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে চারাগুলো মরে যাবে।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। ওইসব জমিতে সেচের মাধ্যমে পানি দিতে হবে। এজন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কৃষকের উপকার হবে। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করেও আবাদ করতে পারছে না।

এস এম এরশাদ/এমআরআর/এমএস