টাঙ্গাইলের অসুস্থ পিন্টু-নাসরিনের পাশে জেলা প্রশাসক
জটিল রোগে আক্রান্ত সেই পিন্টু ও নাসরিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। অসুস্থ ভাই-বোনের চিকিৎসায় তিনি ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে ওই পরিবারের কাছে চিকিৎসা সহায়তার ৫০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন।
এর আগে গত ২১ আগস্ট জাগো নিউজে ‘দেশেই চিকিৎসা সম্ভব গলগণ্ড আক্রান্ত দুই ভাই-বোনের, সমস্যা টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির নজরে আসে। পরে তিনি ভাই-বোনের চিকিৎসায় এই অর্থ সহায়তা দেন।
মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সমেজ উদ্দিন ও সাহেদা বেগমের পিন্টু, ডলি, নাসরিন ও সাহাদত নামের চার সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে বড় ছেলে পিন্টুর জন্ম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়। জন্মের পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন পিন্টু। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সমস্যাও বাড়তে থাকে। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে শরীরে বয়ে বেড়ানো রোগটি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
জন্মের পর পিন্টুকে দুই বছর বারডেম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা করানো হয়। দরিদ্র বাবা-মা টাকার অভাবে এরপর তার আর কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি। অন্যদিকে জন্মের তিন বছর পর থেকেই নাসরিন আক্তারও একই রোগে আক্রান্ত হন।
বর্তমানে তারা ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। খাবার খাওয়ার সময় গলায় আটকে যায়। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হয়। পিন্টুর গলার সমস্যার সঙ্গে এখন চোখেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাম চোখ বাইরের দিকে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিনিয়ত চোখ থেকে পানি ঝরছে। অসুস্থ ছেলেমেয়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে তাদের এমন অবস্থায় বৃদ্ধ বাবা-মা এখন দিশেহারা। বৃদ্ধ বয়সে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে যা পান তা দিয়ে সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন বাবা সমেজ উদ্দিন।

পিন্টু ও নাসরিনের বৃদ্ধা মা সাহেদা বেগম বলেন, ৪৮ বছরেও কেউ আমার অসুস্থ ছেলেমেয়ের খবর নেয়নি। সাংবাদিকরা লেখার পর এখন সাহায্য পাচ্ছি। এ সাহায্যের টাকা দিয়ে আমার ছেলেমেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জানান, পিন্টু ও নাসরিন প্রতিবন্ধী ও তাদের বাবা-মা বয়স্কভাতা পান। তবে পিন্টু ও নাসরিনের চিকিৎসায় টাকার প্রয়োজন যা ওই দরিদ্র বাবা-মার পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নজরে আসার পর জেলা প্রশাসক তাদের সহায়তা করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের দেওয়া ৫০ হাজার টাকা ওই পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মো. এরশাদ মিঞা/এমআরআর/এমএস