ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জেলা পরিষদ নির্বাচন: যশোরে মনোনয়নপ্রত্যাশী ডজনখানেক নেতার দৌড়ঝাঁপ

মিলন রহমান | প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য অন্তত ডজনখানেক নেতা তদবির-তৎপরতা চালাচ্ছেন। আর ঘুরেফিরে আলোচনায় রয়েছে অর্ধডজন নেতার নাম। এর মধ্যে যে কারও ভাগ্যে জুটতে পারে দলীয় টিকিট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৭ অক্টোবর যশোরসহ ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে গত রোববার থেকে (৪ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের জন্য এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নেতারা দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, পাঁচজন সহ-সভাপতিসহ জেলা পর্যায়ের ডজনখানেক নেতা রয়েছেন।

দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে শামিল হয়েছেন- বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, আব্দুল মজিদ, খয়রাত হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান, গোলাম মোস্তফা ও মেহেদী হাসান মিন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হারুণ-অর-রশিদ, সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল ও সাবেক এমপি আলী রেজা রাজুর স্ত্রী ফিরোজা রেজা।

এই এক ডজন নেতার বাইরেও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমানসহ আরও কয়েকজন নেতা যোগাযোগ তদবির করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা। ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় জেল, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। অতীতে একই পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ও সেবার ধারাকে অব্যাহত রাখতে চান তিনি। এজন্যই দল তাকে ফের মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে ওই পদে থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ইউপি চেয়ারম্যান ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় কারাবরণকারী এই নেতা তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে সম্প্রতি দু-একটি ঘটনায় (টেন্ডার নিয়ে বিরোধে লাঞ্ছিত হওয়া, পারিবারিক বিরোধে একটি বাড়িতে লোকজন নিয়ে হামলা করা) তিনি বিতর্কেও জড়িয়েছেন।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের টানা দুইবারের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক দলের দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যশোর এম এম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সে সময় বঙ্গবন্ধুর নিবিড় সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে যশোরে ২৭ আগস্ট যে ২৮ জন সাহসী মানুষ গায়েবানা জানাজা পড়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আব্দুল খালেক। ’৭৫ পরবর্তীকালে শহরের এম এম আলী রোডে তার ছোট্ট দোকানটিই আওয়ামী লীগের অলিখিত অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এজন্য হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে। আর আগে জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা আব্দুল খালেক বলেন, পদের মোহে কোনোদিন রাজনীতি করিনি। বঙ্গবন্ধুর চেতনা বিকাশে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছি। মনোনয়ন চেয়েছি; তবে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। আমৃত্যু দলের প্রয়োজনে কাজ করে যাবো।

জেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী আব্দুল মজিদ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম খয়রাত ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগকে ধ্যান-জ্ঞান করেই তিনি এবার জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন।

স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করা মোহিত কুমার নাথ প্রায় দুই দশক ধরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেল, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে দু’একটি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থানেরও ঘটনা রয়েছে। তারপরও আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেব দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন তিনি।

যশোর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী এক হাজার ৩১৯ জন জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার সাতজন ও নারী ভোটার ৩১২ জন।

আগামী ১৭ অক্টোবর যশোরসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিতে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণের পরই আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এমআরআর/জিকেএস