পাবনা মানসিক হাসপাতাল
খাবার সংকটে বন্ধের ২৪ ঘণ্টা পর রোগী ভর্তি শুরু
২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ফ্রি বেডে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে বলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রতন কুমার রায়ের সই করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
রোগীদের খাবার সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে রোগীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই সঙ্গে রোগী ভর্তি বন্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
জানতে চাইলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রতন কুমার রায় বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করায় টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়নি। দুই মাস ধরে দোকান থেকে বাকিতে রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় রোববার থেকে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সোমবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জটিলতা নিরসনের আশ্বাসে রোগী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করে রোগীদের পথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। টাকা পরিশোধ করার সুযোগ না থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে খাওয়ানো হয়েছে। দোকানদাররা আর বাকি দিতে চাইছে না। এত বড় একটি মানবিক সমস্যা কিন্তু কারও যেন কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

রোববার হাসপাতালের পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, আদালত কর্তৃক হাসপাতালের টেন্ডার কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করায় টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে রোগীদের পথ্য (খাবার) সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়নি। ভর্তি রোগীদের পথ্য/খাবার সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে এবং সরাসরি অবহিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভর্তি রোগীদের পথ্য/খাবার সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা নির্দেশনা দেওয়ায়, রোগীদের পথ্য/খাবার সরবরাহ চলমান রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পর্যায়ক্রমে বাড়িতে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কনসালট্যান্ট ও ওয়ার্ড চিকিৎসকদের নির্দেশ দেওয়া হলো।
পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এ এইচ এম ফয়সাল হোসেন টেন্ডারে দ্রব্যের নাম উল্লেখ করা জটিলতা নিয়ে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার বিবাদী হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল বাসার মো. আসাদুজ্জামান। আদালত ২৯ জুন সার্বিক বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিবাদীর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর ৩০ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. এ কে এম শফিউল আযমকে স্থানীয় ক্রয় ও বাজারদর যাচাই কমিটির সভাপতি করে সাত সদস্যের কমিটি করে রোগীদের খাবার সরবরাহ করার আদেশ দেয়। এতদিন এভাবেই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু টাকার অভাবে রোগীদের খাবার কেনায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ নিয়ে রোববার জাগো নিউজে ‘পাবনা মানসিক হাসপাতাল: খাবার সংকটে রোগীদের পর্যায়ক্রমে বাড়ি পাঠানোর নির্দেশ’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এমআরআর/এএসএম