ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোলে বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে মালামাল লুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | বেনাপোল | প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পে কর্মরত সিপাহী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ভারত ফেরত এক বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীর মালামাল লুট ও ক্রসফায়ারের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরমান হোসেনের আদালতে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মাসুদ আহমেদ (৩১)। পরে আদালত বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ বলেন, পাসপোর্টযাত্রী মাসুদ আহম্মেদের মালামাল লুট ও হত্যার হুমকির অভিযোগে বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মাসুদ আহম্মেদের তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যান। ১৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দেশে ফেরার সময় পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ১০টি শাড়ি, ১০টি পাঞ্জাবি, ১০টি ফুলপ্যান্ট, ২০টি চশমা এবং বিভিন্ন আইটেমের পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের কসমেটিক নিয়ে আসেন। ওই পণ্যগুলো নিয়ে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বিজিবি চেকপোস্ট চেকিং, স্ক্যানিং ও ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে ইজিবাইকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে বেনাপোলের সাদিপুর রাস্তার মোড়ের পূর্বপাশে জি এম পরিবহনের কাউন্টারের সামনে পৌঁছালে আসামি বিজিবির সিপাহী মনিরুজ্জামান মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ইজিবাইকের গতিরোধ করেন। এসময় জোর করে মালামালসহ তাকে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যান। বাদীকে বাইরে রেখে ক্যাম্পের ভেতরে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

এসময় আসামি বাদীকে বলেন ‘এসব মালামালে সমস্যা আছে। আমাকে ৫০ হাজার টাকা দে তাহলে মালামাল ছেড়ে দেবো।’ বাদীর কাছে টাকা নেই জানালে আসামি তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। বাদী আসামির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবেন বললে আসামি বাদীকে বলেন যে, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে ক্রসফায়ার করবো অথবা অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেবো।’ একপর্যায়ে মালামাল রেখে তাকে তাড়িয়ে দেন। ঘটনা ক্যাম্পের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজিবি সিপাহী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি কোনো মালামাল জব্দ করিনি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কোনো বিজিবি সদস্য কারও মালামাল লুট করতে পারে না। বরং তারা উদ্ধার করে কাস্টমে জমা দেন। তবে যিনি মামলা করেছেন ওনার প্রথমে উচিত ছিল মামলা করার আগে আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করতাম। দোষী প্রমাণিত হলে ওই বিজিবি সদস্যকে আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা যেত।

মো. জামাল হোসেন/এমআরআর/জিকেএস