ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সংকট, রোগীদের দুর্ভোগ

আব্দুল্লাহ আল-মামুন | ফেনী | প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২২

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। দুই সপ্তাহ ধরে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন এ হাসপাতালে। সম্প্রতি ডায়রিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ রোগী বেশি। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যা সংকটে বারান্দায় দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৪ জনের জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪১ জন রোগী। নির্ধারিত কক্ষের বারান্দায়ও স্থান না পেয়ে বাইরে চেয়ারে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।

Feni-(1)

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি শয্যার বিপরীতে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ জন রোগী। রোগীর নির্ধারিত শয্যার ডানে, বামে, মাথার পাশে ও পায়ের পাশে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। মেঝেতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগী মেঝেতেও স্থান না পেয়ে বারান্দা ও প্রবেশপথে শয্যা বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেনী সদর হাসপাতাল। পরে রোগীর ভিড় সামলাতে না পেরে ১৯৯৯ সালে ‘আধুনিক সদর হাসপাতাল’ নাম ধারণ করে এটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৫ সালে ১৫০ শয্যা ও ২০১৩ সালে ২৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হয় হাসপাতালটি। তবে ১৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার এ হাসপাতাল।

Feni-(1)

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক পাওয়া গেলেও জরুরি বিভাগ ছাড়া পরামর্শ পাওয়া যায় না। এ সময় নার্সদের ওপরই ভরসা করতে হয় তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র নার্স জাগো নিউজকে জানান, ২৬ জনের জায়গায় ৭৫ জন রোগীকে সেবা দিতে তাদের নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় সব রোগীকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না।

Feni-(1)

চিকিৎসা নিতে আসা আবুল কালাম নামের একজন রোগী বলেন, ‘তিনদিন ধরে হাসপাতালে থাকলেও এখন পর্যন্ত বেড পাইনি।’

আরেক রোগী হোসেন মিয়া বলেন, ‘এক বিছানায় দুজন থাকছি। হাসপাতালের দিনগুলো খুব কষ্টে কাটছে। মন চাইলেও একটু শুতে পারি না, বসতে পারি না। এভাবে কি থাকা যায়?’

Feni-(1)

এ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আসিফ ইকবাল বলেন, জনবল সংকটের কারণে রোগীদের চাহিদামতো সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সসহ সবাই আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এসআর/এমএস