ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মামলা

জেলা প্রতিনিধি | কুমিল্লা | প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০২২

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ছাত্রদল নেতা মামলাটি করেন।

তবে আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতার করা মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি এটি সাজানো ঘটনা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে।

আসামিরা হলেন- দেবিদ্বারের পুরানবাজার এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, রসুলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আনিসুর রহমান, উপজেলা সদরের আবুল হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম সুমন, পুরান বাজার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে জহির, ভিংলাবাড়ি গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ওমর ফারুক, বদিউল আলমের ছেলে জামিউর রহমান, গুণাইঘর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আহম্মেদ শুভ, পুরান বাজার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে নিশান মিয়া ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে নুরুন্নবী।

সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ ৩ অক্টোবর রাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌরসভার আলিয়াবাদ এলাকায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। ওই সময় স্থানীয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলও তার নেতাকর্মীদের নিয়ে একই এলাকায় মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। গাড়ি রাখা নিয়ে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দেব রায় জানান, মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বরকামতা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার ভাই সাকিল ছাত্রদল কর্মী, বাবা রফিকুল ইসলাম বিএনপির সক্রিয় কর্মী। আর এই মামলাটিও সাজানো। ওই দিন এমপি রাজী সাহেবের গাড়ি বহরেও হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে প্রবেশ করিয়ে এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও অপপ্রচারের চেষ্টা করছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সৈকত জানান, মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ফেসবুকে পোস্ট করা বিএনপির বিভিন্ন মিছিলে তার ছবি রয়েছে। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যখন দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বাবা নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন ওই ছেলেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে জানান, গত ৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ভিংলাবাড়ি সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে আমার গাড়ি বহরে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন, আনিছুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে এলোপাথারী গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে আমার বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

মামলার বাদী সাবেক ছাত্রদল নেতা গিয়াস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমি কখনোই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। প্রতিপক্ষের লোকজন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতি করে আসছি। যার প্রমাণ এলাকায় রয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/এমএস