ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ ফরিদপুরের ভাসমান সেতু, চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার ভাসমান সেতুটি ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নে টিটা এলাকায় মধুমতি নদীর বাঁওড়ে ড্রামের ওপর নির্মাণ করা হয় ভাসমান সেতুটি।
এদিকে, ঝড়ে সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। সেতুটি পুনরায় সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে সেতুটি চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ভোর থেকে সেতু দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সেতুটির রেলিং, পাটাতন ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের টিটা গ্রামে মধুমতি নদীর বাঁওড়ের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। তবে সেই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয় কয়েক গ্রামের মানুষের অর্থসহায়তায় ২০২০ সালে ড্রামের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পৌনে ৯ হাজার ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া সেতুটি গ্রামের মানুষ নিজ উদ্যোগে তৈরি করেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ভোগান্তি দূর করে সেতুটি। শুধু তাই নয়, ভাসমান সে সেতুটি দেখতে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ জেলা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতশত মানুষ এসে ভিড় জমান।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন মধুমতি নদীর বাঁওড়ে নির্মিত ভাসমান সেতুটি দিয়ে পারাপার হতেন। ঝড়ে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এসব এলাকার হাজারো মানুষ।
এ বিষয়ে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রেজওয়ান হোসেন বলেন, বর্তমানে সেতুটি দিয়ে চলাচল একেবারে বন্ধ গেছে। ঝড়ে সেতুটির রেলিং ও পাটাতনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি মেরামতের পর চালু করতে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। টাকা জোগাড় হলে সেতুটি মেরামত করা সম্ভব। তবে টাকার অভাবে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে টগরবন্দ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জাগো নিউজকে বলেন, এ অঞ্চলে কলেজ, উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পোস্ট অফিস রয়েছে। নানা প্রয়োজনে মানুষকে এখান দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বহু আবেদন-নিবেদন করার পরও ওই স্থানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে টিটা খেয়াঘাট এলাকায় চার টন ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাসমান সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটির রেলিং, পাটাতনসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে পারাপার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে সেতুটি মেরামত ও চালু করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে টাকার জোগাড় করতে হবে। যতদিন টাকার জোগাড় করা সম্ভব হবে না, ততদিন সেতুটি বন্ধ রাখতে হবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে ঠিক নেই। এতে প্রায় ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এ কে এম জাহিদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটি ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমানে চলাচল বন্ধ। মেরামতের জন্য অর্থ প্রয়োজন। স্থানীয় ও সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জেআইএম