২৭ বছর পর বদলি, তবুও যান না নতুন অফিসে
সরকারি চাকরিবিধি না মেনে এক প্রতিষ্ঠানেই কাটিয়েছেন কর্মজীবনের ২৭ বছর। অবশেষে গত ১৭ আগস্ট তাকে বদলি করা হয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু এরপরেও তাকে আগের প্রতিষ্ঠান থেকে সরানোই দায়। বদলি আদেশের পাঁচদিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থল ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তবে এরপর থেকে তার আর সেখানে দেখা নেই। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বদলে এখনো তিনি থাকছেন পুরাতন কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামছুর রহমান ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘বড় বাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালটিতে তার ইশারায় চলে সবকিছু। তিনি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্য করতেন। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে সেখানে তার গড়ে ওঠে একটি সিন্ডিকেট। অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে ফরিদপুর জেলা ও জেলার বাইরে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে অসুস্থ। তাই মাঝে-মধ্যে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান সহকারীর পদে প্রায় দুই যুগের বেশি সময় চাকরি করায় অনেক কাজই নতুন যোগদানকৃত প্রধান সহকারীকে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। তাই একটু সময় লাগছে।
দুই মাস সময় লাগা স্বাভাবিক কি না, জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির ব্যাপারে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো অনিয়ম করিনি। এসব অভিযোগ সবই বানোয়াট। আমার বিরুদ্ধে কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেবো।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, সামছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান সহকারী হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি যোগদান করার পর একটি ট্রেনিংয়ে ফরিদপুরে আছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনামুল হক বলেন, সামছু নামের কাউকে আমি চিনি না। হয়তো আমার যোগদানের আগেই তাকে বদলি করা হয়েছে।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানেই তিনি নিয়মিত অফিস করছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক বলেন, তিনি এখন আমাদের অধীনে চাকরি করেন না। তিনি সিভিল সার্জনের অধীনে চাকরি করেন। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, একস্থান থেকে অন্যত্র বদলি করা হলে বর্তমান কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই। সেটি যদি কেউ করে থাকেন তবে তিনি ঠিক করেননি। এটা অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, সামছুর রহমান ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পরও কেন অফিস করছেন না তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন কে বি নয়ন/এমএইচআর/এএসএম