ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্র হত্যায় যুবকের যাবজ্জীবন, ৮ আসামি খালাস

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২২

লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্র মো. শাওনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে শাহাদাত হোসেন শাকিল পাটওয়ারী নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অভিরখিল এলাকার মৃত আবু তাহের হারুনের ছেলে। এছাড়া খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- সোহেল পাটওয়ারী, পরান পাটওয়ারী, পারভেজ পাটওয়ারী, নাজিম উদ্দীন, নুর আলাম দুদী, তানিয়া আক্তার, ফেরদৌসী বেগম ও সামছুর নাহার। তারা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অভিরখিল এলাকার বাসিন্দা।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শাহাদাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। রায়ের সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় অপর আট আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এজাহার সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী শাওন সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহম্মেদের ছেলে। সে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। কলেজ থেকে বাড়ি দূরে হওয়ায় সে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অভিরখিল এলাকায় খালা বাড়িতে থাকতো। আসামিদের সঙ্গে শাওনের খালু মহিব উল্যা মাস্টারদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল।

২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামিরা মহিব উল্যা ও তার সন্তানদের ওপর হামলা চালান। বাড়িতে তাদের না পেয়ে ঘরে ঢুকে তারা শাওনকে বেদম পেটান। একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল ধারালো ছুরি দিয়ে শাওনের বুকে আঘাত করেন। পরে তার চিৎকার শুনে সবাই এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাওন মারা যান। একইদিন শাওনের খালাতো ভাই সালাউদ্দিন লোটাস বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মালা করেন।

২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন খান আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সোমবার এ রায় দেন।

মামলার বাদী সালাউদ্দিন লোটাস বলেন, ঘটনার সঙ্গে সব আসামি জড়িত ছিল। কিন্তু আদালত আটজনকে খালাস দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

কাজল কায়েস/এমআরআর/জেআইএম