১৩ দিনেও সন্ধান মেলেনি মেঘনায় নিখোঁজ তিন জেলের
ঘূর্ণিঝড়ে নৌকাডুবে নিখোঁজ লক্ষ্মীপুরের তিন জেলের সন্ধান মেলেনি ১৩ দিনেও। মাছ শিকার করতে মেঘনা নদীতে গিয়ে ২৪ অক্টোবর রাতে তারা নিখোঁজ হন। শনিবার (৫ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসও কাজ করছে। কমলনগর, রামগতি ও ভোলার অংশের সম্ভাব্যস্থানে তাদের খোঁজা হয়েছে। তাদের না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন রয়েছে।
নিখোঁজরা হলেন- রায়পুর উপজেলার চরকাছিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে লিটন, আবদুর রব বেপারীর ছেলে শিপন বেপারী ও রব সরদারেরর ছেলে সুজন সরদার। এরই মধ্যে লিটনের বাবা আবুল কাশেম ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় রায়পুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া এলাকা থেকে ১০ জেলে নৌকা নিয়ে কমলনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে যান। রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কবলে পড়ে তারা। এরমধ্যে সাতজন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকায় কূলে আসতে পারলেও তিনজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে জেলে রাসেল বেপারী, রাশেদ বেপারী, রাসেল হাওলাদার, বাচ্চু বেপারী, জুনু মোল্লা, মো. হাসান ও মো. জুয়েল উদ্ধার হন। তাঁরা চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া জেলে রাসেল হাওলাদার বলেন, আমরা রাসেল বেপারীর নৌকায় কাজ করি। নদীতে মাছ শিকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু উত্তাল নদীতে মাছ বেশি পাওয়ার আশায় দুই নৌকায় করে ১০ জন শিকারে যাই। নদীর কমলনগর এলাকায় আমাদের নৌকা ছিল। ঝড়ের সময় ঢেউয়ের সঙ্গে আমাদের একটি নৌকার তলা ফেটে যায়। এতে নৌকাটি অন্যটির সঙ্গে বাঁধা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি উল্টে সবাই নদীতে পড়ে যাই। সাতজন কমলনগরের মতিরহাট এলাকায় কূলে আসতে পাড়ি। বাকি তিনজনের খোঁজ পাইনি।
নিখোঁজ জেলে লিটনের স্ত্রী মারুফা বেগম বলেন, ফিরে আসা জেলেদের চিকিৎসার জন্য প্রশাসন দশ হাজার টাকা করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছুই হলো না। স্বামীকেও পেলাম না। দুই সন্তান নিয়ে আমি এখন কার কাছে যাবো?
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। তাদের সন্ধানের জন্য নদী ও তীরবর্তী এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
কাজল কায়েস/জেএস/এমএস