নওগাঁয় ইটভাটা দুই শতাধিক, ছাড়পত্র ৬টির
নওগাঁয় দুই শতাধিক ইটভাটা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ছয়টিতে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে চলছে জেলার বেশিরভাগ ইটভাটা। তবে নতুন নিয়ম যুক্ত করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স এবিসি ব্রিকসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমার ভাটার বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত করার পর থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। একটি ইটভাটা চালাতে গেলে প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে ৬-৭ লাখ দিতে হয়।

আমার দুটি ইটভাটা রয়েছে। এটি ভাটার জন্য প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা লাগে। এ পর্যন্ত ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা কেনা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে ব্লক ইট তৈরি করতে। আমরা সরকারকে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোটা অংকের রাজস্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু কিছু কাগজপত্র না পাওয়ায় সবভাটাই এখন অবৈধ। প্রশাসন কখন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করাসহ বন্ধ করে দেয় সে আতঙ্কে দিন কাটছে।
ইটের খরচ বিষয়ে তিনি বলেন, জেলায় যে পরিমাণ ইট উৎপাদন হয় তার ৬০ শতাংশ সরকারি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়। গত বছর সরকারি কাজ কম হওয়ায় এখনো প্রায় ২০ শতাংশ ইট ভাটায় পড়ে আছে। সবকিছুর দাম বাড়ায় উৎপাদন করতে খরচ বেশি পড়েছে। গড়ে প্রতি হাজার ইট উৎপাদন করতে খচর পড়ছে ১০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে ১১ হাজার টাকা। এভাবে চললে ব্যবসায় ধস নামবে।

বদলগাছী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স খান এনসনের মালিক খোরশেদ বলেন, উপজেলায় ২০টি ইটভাটা রয়েছে। কয়লার দাম বাড়ায় আমরা বিপদগ্রস্ত। বাজারে টিকে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আত্রাই উপজেলার বান্দায়খাড়া এলাকার মেসার্স জেকেএইচ ইটভাটার মালিক সামসুল হুদা বলেন, কয়লার দাম বেশি। এ বছর কয়লার চাহিদা প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লা কেনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাটা পরিচালনার জন্য আমাদের সব কাগজপত্র ছিল। কিন্তু এখন নাই। আগে পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পেতে তেমন নিয়ম ছিল না। কিন্তু নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত হওয়ার কারণে ইটভাটার পরিচালনায় পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে না।

মেসার্স তাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক রোকন উদ্দিন বলেন, ইটের মৌসুমে দাম কমবে সে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু এবার তার উল্টো হয়েছে। এ বছর এক হাজার ইটের দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা। দাম বাড়ায় আমাদের বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, জেলায় ছয়টি ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটা যদি পরিপূর্ণ না হয় তাহলে পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, ইটভাটার পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে। পরিবেশসহ অন্যান্য বিষয় অক্ষুণ্ণ রেখে ইটভাটা পরিচালনা করে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
আব্বাস আলী/আরএইচ/জেআইএম