ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অস্তিত্ব সংকটে যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

যশোরের একসময়ের প্রবাহমান নদী মুক্তেশ্বরী এখন অস্তিত্ব সংকটে। দখল, দূষণে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। দীর্ঘদিন ধরেই নদীটির গলায় ফাঁস দেওয়ার আয়োজন চললেও রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কেউ।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই নদীটি উদ্ধার ও সংস্কার করা হবে।

জানা যায়, যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর বাওড়ের পাশ দিয়ে সলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকা হয়ে সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নদীটি। সেখান থেকে নদীটি মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া গিয়ে মিশেছে।

সরেজমিন যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা, মণ্ডলগাতি, পুলেরহাট অংশ ঘুরে দেখা গেছে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দখলদাররা ভবন নির্মাণ, ময়লা ফেলার ভাগাড় ও মাছ চাষসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন। কোথাও কোথাও নদীর দুই পাশ দখল করে সরু করা হয়েছে। কোথাও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও নেটপাটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নদীর প্রবাহ আটকে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নদীর প্রকৃত সীমানা যেমন চিহ্নিত নেই, তেমনি কে কোথায় কতটুকু দখলে নিয়েছে তারও পুরোপুরি হিসাব কেউ দিতে পারেননি। ফলে এক সময়ের প্রবাহমান নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

পুলেরহাট এলাকার এক চা দোকানদার বলেন, এক সময় নদীতে স্রোত ছিল। নদীপাড়ের লোকজন নানা অজুহাতে তা দখল করেছে। এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনেও খনন কিংবা নদী সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

নজরুল ইসলাম নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। কিন্তু নদীরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এজন্য নদী দখলে কেউ পিছিয়ে নেই। যার যতটুকু সুযোগ আছে, সে ততটুকু দখল করে বসে আছে।

নাম প্রকাশ না করে আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, নেটপাটা দিয়ে নদীর পানি প্রবাহ আটকে রেখে মাছ চাষ করছে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে এটিকে খাল দেখিয়ে ডিসি অফিস থেকে লিজ নিয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে লিজ বাতিল করে ডিসি অফিস। কিন্তু আজও অবৈধ নেটপাটা রয়ে গেছে। এভাবেই মাছ চাষ চলছে। এলাকার মানুষ পানিতেও নামতে পারে না। ওইসব প্রভাবশালীরা পানিতে নামলেই মারধর করে।

স্থানীয়রা আরও জানান, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট খাল হিসেবে যে যার মতো দখল করেছেন। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খনন ছাড়া নদীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিন ধরে নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন জনউদ্যোগ যশোরের সদস্য রুকুনউদ্দৌলাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূলত নদীটা যাদের দেখার কথা, সেই কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। অনৈতিক সুযোগ নিয়েই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখল করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, নদী সংরক্ষণ আইন আছে, তবে সুষ্ঠু প্রয়োগ হয় না। এজন্য শুধু মুক্তেশ্বরী নয়; যশোরের অনেকেই নদীই আজ দখল হয়ে রয়েছে। নদীগুলো মারা যাওয়ার ফলে পরিবেশ, চাষাবাদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসলেও কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে না বসায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, মুক্তেশ্বরী নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খর্নিয়া পর্যন্ত খনন ও দখলমুক্ত করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই নদী রক্ষার কাজ শুরু হবে।

মিলন রহমান/এমআরআর/এমএস