ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১৫
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক ইউপি সদস্য ও তার সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রবিউল ইসলাম খাঁন ও তার সমর্থকদের সঙ্গে বনগ্রাম ও গোয়ালদী গ্রামবাসীর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রবিউল ইসলাম খাঁনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে। সম্প্রতি রবিউল জামিনে বের হয়ে ফেসবুক ও পুরাপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের লোকদের হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এরই জের ধরে রোববার পুরাপাড়া বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে রবিউল ইসলাম খাঁন ও তার সমর্থকদের সঙ্গে বনগ্রামের আসাদ মোল্লা ও গোয়ালদী গ্রামের আক্কাস মোল্লার নেতৃত্বে বনগ্রাম ও গোয়ালদী গ্রামের শতাধিক মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে বনগ্রামের বাসিন্দা আসাদ মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, রবিউল ওরফে রবি মেম্বার অস্ত্র মামলায় জামিনে এসেই এলাকার বিভিন্ন লোকদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। রবির অত্যাচার থেকে এলাকাবাসী মুক্তি চায়। রবি বাহিনীর হামলায় আজ বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়েছে। গ্রামবাসী এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য (মেম্বার) রবিউল ইসলাম খাঁন রবি জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। আমি জামিনে আসার পর প্রতিপক্ষরা আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে।
এ বিষয়ে পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বাবু ফকির জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিপক্ষরা মেম্বার রবির ওপরই আগে হামলা করে। তারপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ মিমাংসা করার চেষ্টা করছি।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এন কে বি নয়ন/এফএ/এএসএম