ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশ

অদম্য সালমানকে এবার চাকরি দিলেন ফরিদপুরের ডিসি

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৩

অদম্য মেধাবী সালমান মৃধার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার চাকরি দিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার।

সালমানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক তাকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজে খণ্ডকালীন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেন।

এরআগে বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সালমান মৃধাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে সালমান মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। আমার কাছে সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি আমি ও আমার পরিবার সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।’

এর সত্যতা নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী জাগো নিউজকে বলেন, সোমবার (২ জানুয়ারি) জাগো নিউজে রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করে জিপিএ-৫, কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা শিরোনামের প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে তিনি তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজে খণ্ডকালীন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জানতে চাইলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, এখন চাকরির সুবাদে সালমান পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সালমানের ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া নির্বিঘ্ন করতে স্কুলড্রেস দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের সব ভালো ও মানবিক কাজে জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ইজা দুর্গাপুর গ্রামের বিল্লাল মৃধার সন্তান সালমান মৃধা (১৬)। সে এবার ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ঈশান ইনস্টিটিউশনের কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সালমানের বাবা বিল্লাল মৃধা (৫০) অন্যের জমিতে কাজ করে যা পেতেন তা দিয়েই কোনোমতে চলতো তাদের সংসার। সালমান অন্যের জমিতে ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসারের খরচ বহনের পাশাপাশি চালিয়ে গেছে পড়াশোনা।

এসএসসির ফলাফল প্রকাশের পর তার কলেজে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে গত ২ জানুয়ারি তাকে নিয়ে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এন কে বি নয়ন/এসআর