রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করে জিপিএ-৫, কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ইজা দুর্গাপুর গ্রামের বিল্লাল মৃধার ছেলে সালমান মৃধা (১৬)। অদম্য মেধাবী সালমান এবার ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ঈশান ইনস্টিটিউশনের কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু তার কলেজে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
অভাব-অনটনের সংসার তাদের। ঠিকমতো খাবারই জোটে না তার ওপর আবার পড়ালেখার খরচ। কিন্তু অভাব অনটন, নানা বাধা-বিপত্তি তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কখনও করেছে অন্যের জমিতে কাজ, আবার কখনও রাজমিস্ত্রীর শ্রমিকের কাজ করে সংসারের খরচ বহনের পাশাপাশি চালিয়ে গেছে পড়াশোনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালমান মৃধাসহ ঈশান ইনস্টিটিউশনের কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেধাবী সালমান মৃধা দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। ছোট ভাই সিয়াম মৃধা (১২) ঈশান ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সালমানের বাবা মো. বিল্লাল মৃধা (৫০) ফরিদপুর শহরের চকবাজার এলাকায় কুলির কাজ করতেন। এখন তিনি অন্যের জমিতে কাজ করে যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার।
সালমান মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলের পাশাপাশি সারাদিন কাজকর্ম করে রাত একটা দুইটা পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। একমাত্র মায়ের প্রেরণায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, জামা-কাপড়সহ নানা খরচ কিভাবে চালাব দুশ্চিন্তায় আছি। কলেজে পড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সালমানের বাবা বিল্লাল মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, অভাবের সংসার। ঠিকমতো সংসারই চালাতে পারি না। বয়স হয়েছে। শরীরে রোগশোক আছে। ছেলের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এজন্য পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যের জমিতে ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সালমান যা পায় তা দিয়ে পড়ালেখার খরচ চালায়। আবার সংসারের খরচও চালায়।
মা শেফালী বেগম জাগো নিউজকে বলেন, খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে তাকে লেখাপড়া করাচ্ছি। আমার আশা ছেলে লেখাপড়া করে ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে কি না জানি না। আমরা গরীব অসহায় মানুষ। কলেজে ভর্তি, পড়ালেখার খরচ চালাবো কিভাবে এখন সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
এ ব্যাপারে ঈশান ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী বলেন, সালমান মৃধা একজন মেধাবী ছাত্র। কিন্তু সে গরীবের ছেলে। কোনোদিন হয়তো প্রাইভেটও পড়েনি। নিজে নিজে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করেছে। স্কুলে পড়াকালীন তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এখন যেহেতু জানতে পারলাম সে যোগাযোগ করলে সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস