ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সভায় ভাইস-চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে এলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ভিজিডি কার্ডের তালিকা নিয়ে নারী ভাইস-চেয়ারম্যানকে অশালীন ভাষায় গালাগালের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি ভাইস-চেয়ারম্যানকে মারতেও তেড়ে আসেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সভায় চরম হট্টগোল হয়। পরে পুলিশ এনে পরিস্থিতি সামাল দেয় উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী আফসানা জেসমিন পপি ও ফাতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টোর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাইস-চেয়ারম্যান পপি ভিজিডি কার্ডের তালিকায় তার দেওয়া তিন উপকারভোগীর নাম কাটার অভিযোগ তুলে ফতেখাঁরকলের চেয়ারম্যান ভুট্টোর বিরুদ্ধে সভায় বক্তব্য দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ভুট্টো পপিকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেন। ফোন দিয়ে তার ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকসহ বিভিন্ন লোকজন হাতে লাঠি নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে জড়ো হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান আফসানা জেসমিন পপি বলেন, ‘ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে ভিজিডির তালিকায় তিনজন হত দরিদ্রের নাম জমা দিয়েছিলাম। তাদের নাম তালিকা থেকে কেটে দেন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো। বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় সভায় অভিযোগ করলে ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হন। বক্তব্য চলাকালে আমাকে তুই-তোকারি করে অশোভন ও অমার্জিত আচরণ করেন। এক পর্যায়ে মাইক্রোফোন ছুড়ে মারতে তেড়ে আসেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, ইউএনও ফাহমিদা মুস্তফাসহ সবাই হতবাক হন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পপি বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ভুট্টো মানসিকভাবে আমাকে হেনস্থা করে আসছিলেন। এমনকি গত কয়েকদিন আগেও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ও এক জনপ্রতিনিধির সামনেও অশালীন বাক্যে বাজে ইঙ্গিত দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এটি চলে এলেও এলাকার বড়জন হিসেবে তা মাথায় নিইনি।’

পপির দাবি, ‘এক সময় আমি ভুট্টোর পরিষদে মহিলা মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখনো তিনি আমাকে উত্ত্যক্ত করাসহ অশালীন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে কু-প্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় আমার ওপর ক্ষেপে আছেন তা আমার জানা ছিল না।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফতেখাঁরকুলের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ‘তিনি এক সময় আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তাকে মাহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে আমিই নির্বাচিত করেছি। ভিজিডি তালিকায় যে তিনজনের নাম তিনি দিয়েছেন তারা সবাই আর্থিকভাবে সচ্ছল তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় একটু বাকবিতণ্ডা হয়েছে সত্যি। তবে তা আবার মিটমাট হয়ে যায়।’

মাসিক সমন্বয় সভায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় মন্তব্য করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, এরকম একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস