ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

টাকা নেই তাই চিকিৎসাও নেই ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত জাভেদের

এন কে বি নয়ন | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৩:৩৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের দয়রামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর কবিরাজ ও আঞ্জুয়ারা বেগম দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট ১২ বছরের শিশু জাভেদ। মাত্র আড়াই বছর বয়সে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে জাভেদের। জাভেদের চিকিৎসা করাতে বাড়ি, জমি ও অর্থ সব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটি। টাকার অভাবে দেড় বছর ধরে সব ধরনের চিকিৎসাও বন্ধ জাভেদের। এখন চোখে ইনফেকশন হওয়ায় নষ্ট হতে চলেছে দৃষ্টিশক্তিও।

জাভেদের বাবা জাহাঙ্গীর ভাগ্য বদলের জন্য ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন একটি কোম্পানিতে। ছেলের এই অবস্থায় দেশে ফিরলে বেকার হয়ে পড়বেন, তাই ফেরেননি। কিন্তু এখন ইরাকে অবৈধ হয়ে যাওয়ায় সেই চাকরিও চলে গেছে জাহাঙ্গীরের। গত কয়েক মাস ধরে সংসার খরচও দিতে পারছেন না, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ইরাকে।

আরও পড়ুন- ভালোবাসা দিবসে শফিকুলের মুখে হাসি

চোখের সামনে ছেলের কষ্ট দেখে আর চিকিৎসা না করাতে পেরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাভেদের মা আঞ্জুয়ারাও।

জাভেদের খালা স্বপ্না বেগম জানান, এখন কোনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার ভিজিট দেওয়া, ওষুধ কেনা কিংবা একটা পরীক্ষা করানোর অবস্থা নেই আমাদের। চোখের সামনে দেখছি একটা ফুটফুটে ছেলে মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে, ন্যূনতম চিকিৎসাও করাতে পারছি না।

টাকা নেই তাই চিকিৎসাও নেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত জাভেদের

পারিবারিক সূত্র জানায়, জন্মের পর থেকেই জাভেদের জ্বর-ঠান্ডা কখনোই সারতো না। পরে ফরিদপুরের এক শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করালে জাভেদের শরীরে ব্লাড ক্যানসারের জীবাণু ধরা পড়ে। তখন জাভেদের বয়স আড়াই বছর।

আরও পড়ুন- বিলুপ্তপ্রায় রেডিও কামালের নিত্যসঙ্গী

সর্বশেষ দেখানো চিকিৎসক জানিয়েছিলেন ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন জাভেদের চিকিৎসার জন্য। এত টাকাও তাদের নেই তাই দেড় বছর ধরে চিকিৎসাও নেই জাভেদের।

এর মধ্যে আবার সম্প্রতি জাভেদের চোখে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছে সে।

আরও পড়ুন- বাসাবাড়ির বর্জ্য থেকে জৈব সার

ছেলের এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তার পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে। তাদের আশা, সাংবাদিকরা অসহায় জাভেদের কথা তুলে ধরলে, দেশের হৃদয়বান মানুষদের নজরে আনলে নিশ্চয় চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে।

জাভেদের মায়ের আকুতি, ‘দেশ ও প্রবাসের হৃদয়বান ভাই, বন্ধু, স্বজন আমার সন্তান জাভেদের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সবার একটু একটু ভালোবাসাই সুস্থ করে তুলতে পারে আমার জাভেদকে।’

এফএ/জেআইএম