স্ত্রীর যৌতুক মামলায় স্বামী কারাগারে
ফেনীতে স্ত্রীর করা যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শহিদুল ইসলাম সুমনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ এপ্রিল) তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের পশ্চিম সিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুছ সামাদের মেয়ে তাসলিমা আক্তার (৩৫) ও একই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত খাজা আহমদের ছেলে শহিদুল ইসলাম সুমন (৪০) ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে ভালোবেসে বিয়ে করেন। পরবর্তীকালে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সামাজিকভাবে সুমন স্ত্রী তাসলিমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। তাদের পরিবারে বর্তমানে দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
কয়েক বছর সুন্দরভাবে তাদের সংসার চলছিল। পরে তাসলিমা জানতে পারেন তার প্রবাসী স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত ও লোভী স্বভাবের। এসব বিষয়ে তাসলিমা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করলে তাদের পরিবারে অশান্তি শুরু। সুমন প্রবাস থেকে দেশে আসলে তাসলিমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে সুমন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাসলিমা তার সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েন। দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ২০২২ সালে হঠাৎ সুমন বিদেশ থেকে ফোন করে স্ত্রীকে বলেন, ‘বিদেশ আর ভালো লাগে না, দেশে এসে কিছু করবো’। তাই স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। তাসলিমা এ বিষয়ে সম্মতি না দিলে সুমন দেশে ফিরে চাপ সৃষ্টি করেন। প্রায়ই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর সকালে তাসলিমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান সুমনের ভাইবোনরা। তখন এ ঘটনা তার মাকে জানালে আত্মীয় স্বজনরা তাসলিমাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে ওইদিনই এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ দেন তাসলিমা। পরে তিনি ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলায় চলতি মাসের ৫ তারিখ আসামি শহিদুল ইসলাম সুমনের নামে ওয়ারেন্ট জারি হলে ফেনী মডেল থানা পুলিশ বুধবার তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/এমএস