ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

একরাম হত্যার ৯ বছর

রায় ঘোষণার ৫ বছরেও হয়নি কার্যকর, পরিবারের ক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ২০ মে ২০২৩

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার ৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (২০ মে)। আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের রায় হলেও কার্যকরের মুখ দেখেনি এখনো।

নিম্ন আদালতের পর হাইকোর্টে দণ্ডপ্রাপ্ততের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে একরামের পরিবার ও গ্রামবাসী। এ হত্যাকাণ্ডের রায় বাস্তবায়ন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তারা। স্বজনদের একটাই দাবি, আসামিদের দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করেন উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন: একরাম হত্যাকাণ্ড: আটকে আছে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ মে প্রকাশ্যে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে হত্যার ঘটনায় জড়িতরা একের পর এক গ্রেফতার হতে থাকেন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। বেরিয়ে আসে সরকার দলীয় অন্তঃকোন্দলই এ হত্যাকাণ্ডের কারণ। ঘটনার সঙ্গে রাঘব-বোয়ালদের নাম বেরিয়ে এলে আত্মগোপনে চলে যায় হত্যাকারীরা। ঘটনার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী।

হরতাল-অবরোধ-বিক্ষোভসহ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা। এ ঘটনায় একরামের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী থানায় মামলা করেন।

হত্যার ১০০ দিন পর ওই বছরের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ৫৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১২ নভেম্বর আলোচিত এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অভিযোগপত্র দাখিলের ১৬ মাস পর ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ মামলার চার্জ গঠন করেন আদালত। এরপর শুরু হয় বিচারকাজ।

আদালত মামলার বাদী একরামের ছোট ভাই এহসানুল হক, নিহতের স্ত্রী তাসমিন আক্তার, গাড়িচালক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ৫০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। মামলায় ৫৯ জনকে সাক্ষী করে পুলিশ। এর মধ্যে সাধারণ সাক্ষী ছিলেন ২৮ জন। গ্রেফতারদের মধ্যে ১৬ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একাধিক চাপাতি ও পাঁচটি পিস্তলের মধ্যে কয়েকটি চাপাতি এবং দুটি পিস্তল জব্দ করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: একরাম হত্যাকাণ্ড : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামিকে খুঁজছে পুলিশ

২০১৮ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। ওইদিন একরামের পরিবারের কাউকে আদালত ভবন এলাকায় দেখা যায়নি। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্থানীয় নির্বাচন থেকে আসামিদের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিকল্পিতভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে।

ekram.jpg

এ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ২২ জন হলেন- হত্যার পরিকল্পনাকারী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে সিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে বক্কর, মো. আজমির হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাণ্ডু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু মো. সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ূন ও টিপু।

খালাসপ্রাপ্ত ১৬ জন হলেন- প্রধান আসামি জেলা তাঁতি দলের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার, একরামের একান্ত সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, মো. আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, আবদুর রহমান রউফ, সাইদুল করিম পবন ওরফে পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, কালা ওরফে কালা মিয়া, নুরুল আবসার রিপন, মো. ইউনুস ভূঁইয়া শামীম ওরফে টপ শামীম, মো মাসুদ, কাদের ও ফারুক।

আরও পড়ুন: ৭ বছর পর একরাম হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি গ্রেফতার

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ২২ জন আছেন কারাগারে। আটজন জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক এবং চার্জশিটভুক্ত ৯জন শুরু থেকে পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান বাপ্পি (২৮) নামে একজনকে ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক আসামিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জিহাদ, আবিদুল ইসলাম আবিদ, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, রাহাত মো. এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান ওরফে ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলে উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহিউদ্দিন আনিছ, বাবলু ও টিটু। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একেবারে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত জাহিদ হোসেন জিহাদ ও আবিদুল ইসলাম আবিদ পালিয়ে দেশের বাইরে চলে যান।

কলিম উল্লাহ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, একরাম হত্যার রায় ঘোষণার অনেক বছর হয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি। এ নিয়ে আমরা হতাশ। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

মামলার বাদী নিহত একরামের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম বলেন, অনেক হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে আমার ভাই হত্যা মামলার ফাইল রহস্যজনক কারণে নিচে পড়ে আছে। রাষ্ট্রের কাছে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।

ফেনী জেলা জর্জ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ এ মামলায় ৩৯ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়ে নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণা হয়। তবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন কারাগারে থাকা ২২ আসামি। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও করা যাচ্ছে না।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, একরাম হত্যা মামলার ১৭ আসামিকে গ্রেফতারে সোর্স নিয়োগসহ যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মৃত্যুবার্ষিকীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচি

ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম মজুমদার জানান, শনিবার বিকেল ৪টায় প্রয়াত চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের কবর জেয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। বিকেল সাড়ে ৪টায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসজে/এমএস