ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আত্মসমর্পণের পর চরমপন্থি

‘এতদিন ভুল পথে ছিলাম, আর থাকতে চাই না’

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ২১ মে ২০২৩

ফারুক সেখ (৩৫)। নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএলের (লাল পতাকা) একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি রাজবাড়ী ও পাবনার নদীঞ্চলের একজন আঞ্চলিক পরিচালক ছিলেন। তবে অন্ধকার এ জগত থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তিনি। অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ফারুক সেখ। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে তার উপলব্ধি—এতদিন ভুল পথে ছিলেন।

ফারুক সেখ রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোপালবাড়ী গ্রামের মৃত সাঈদ সেখের ছেলে।

jagonews24

রোববার (২১ মে) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল র‍্যাব-১২ কার‍্যালয়ে চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণ করেন। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‍্যাবের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) এম খুরশীদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই ফারুক জানালেন তার চরমপন্থি হয়ে ওঠার কাহিনি।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ৩১৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

ফারুক সেখ তার অন্ধকার জীবনের গল্পের শুরুতে বলেন, ‘সংগঠনের কেন্দ্র থেকে বোঝানো হতো আমরা শ্রমিক শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করছি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। আমরা দীর্ঘদিন যে অন্ধকার জীবনে ছিলাম তা থেকে বুঝতে পেরেছি এতদিন ভুল পথে ছিলাম।’

jagonews24

ফারুক বলেন, ‘এমনও হয়েছে আজ খেয়েছি কাল খাইনি, আজ ঘুমিয়েছিতো কাল ঘুমাইনি। আমরা ভুল পথে গিয়েছিলাম। আমরা আর এ পথে থাকতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকের মা-বাবা মারা গেছে। কেউ জানাজাতো দূরের কথা, চোখের দেখাও দেখতে পায়নি। আমাকে এক নজর দেখতে চাইলে বাবা-মাকে সমাজের বিভিন্ন মানুষ কটু কথা বলেছে। একপর‍্যায়ে সন্তানকে দেখার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বাবা-মাকে। শেষ বেলায় বাবা-মায়ের কবরটা দেখতে যাবো সেটাও প্রশাসনের ভয়ে সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন: চরমপন্থিদের পুনর্বাসন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজের অন্ধকার জীবনের কাহিনি বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফারুক সেখ। তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলেমেয়েগুলো বলে, তুমি কি করো? সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা দিতে পারি না। অনেক সময় বাড়িতে বলা হয়েছে যে, আমি বাড়িতে আসবো। কিন্তু প্রশাসন খবর পেয়েছে ছেলেটা আজ বাড়িতে আসবে। পরিবারের লোকজন সারারাত জেগেছে কিন্তু আমরা প্রশাসনের ভয়ে যেতে পারিনি।’

jagonews24

বাকি জীবনটা যেন ভালো কাটিয়ে দিতে পারেন সেজন্য মামলা থেকে মুক্তি ও কর্মসংস্থানের দাবি করেন ফারুক সেখ।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার নাজমা আকতার বলেন, ‘আমার স্বামী শাহজাহান আলী একজন চরমপন্থি দলের সদস্য ছিলেন। ২০ বছর বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। আজ আমার স্বামী ভুল পথ থেকে ভালো পথে ফিরে এসেছেন। এখন সরকার যেন আমাদের সুন্দরভাবে জীবনযাপন করার সুযোগ করে দেয়।’

এম এ মালেক/এসআর/জিকেএস