ছয় দিনেও সন্ধান মেলেনি সেই পাগলা মহিষের
ফাইল ছবি
ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কোরবানির হাট থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই পাগলা মহিষ এখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মহিষের সন্ধান অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অন্যদিকে মহিষ ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আহত যুবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় পশুর হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা একটি মহিষ কোরবানির ঈদের আগের রাতে বাঁধন ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় মহিষটি অন্তত দুজনকে আহত করে। তখন থেকে মহিষের মালিক ও গ্রামবাসী মিলে ধরার চেষ্টা করেন। ৩০ জুন সকালে দুপ্তারা এলাকায় মহিষটি বেপরোয়াভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় মহিষটির আঘাতে আরও কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়রা ওই এলাকায় টহলে থাকা আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। শহিদুল তার টহল দল নিয়ে মহিষটি ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তিনি মহিষটিকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়লে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মহিষের পেছনে থাকা স্থানীয় যুবক মো. শান্তর গায়ে লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত মো. শান্ত উপজেলার দুপ্তারা এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
এসআই শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মো. শান্ত বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। এরই মধ্যে তার অপারেশন সফল হয়েছে। আসলে মহিষকে লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু সে কীভাবে মাঝখানে ঢুকে গেলো বলা যাচ্ছে না। গুলিটি ওর গায়ে লেগে মহিষের গায়েও লাগে। গুলি খেয়ে মহিষটি পড়েও গিয়েছিল। পরে ওই যুবককে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ায় মহিষটি ধরা যায়নি।
আরও পড়ুন: পাগলা মহিষ ধরতে পুলিশের গুলি, যুবক আহত
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক তৈয়ব জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির হাটে তোলা মহিষটি ছুটে কয়েকজনকে আহত করে। পুলিশ স্থানীয় লোকজনের জানমাল রক্ষার্থে মহিষটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দুর্ঘটনাবশত গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এক যুবকের পেটে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মহিষটি ধরা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনার পর মহিষটি গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে আড়াইহাজারের ছনপাড়া এলাকায় একটি বিলের ভেতর পালিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মহিষটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের সন্ধান অব্যাহত আছে। একইসঙ্গে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে ট্রাঙ্কুইলাইজার (চেতনানাশক) আনা হয়েছে। দেখা মাত্রই তাকে ট্রাঙ্কুইলাইজার পুশ করে অচেতন করা হবে।
আড়াইহাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, সম্ভবত মহিষটি এলাকাছাড়া হয়ে গেছে। এখানে নেই। এরপরও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি আরও বলেন, মহিষ সাধারণত শান্ত স্বভাবের হয়। আবহাওয়া, উচ্চ শব্দসহ প্রতিকূল যেকোনো পরিবেশেই মহিষ বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে মহিষটি বিরক্ত না করাই ভালো। বিরক্ত করলে মহিষটি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শান্ত হলে আবারও তাকে ধরা যেতে পারে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/এএসএম