ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেয়র সম্মেলনে তামাকমুক্ত নগর গড়ার অঙ্গীকার

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন ‘মেয়র এলায়েন্স ফর হেলদি সিটিজ’ সংগঠনের নেতারা।

শুক্রবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের তারকা হোটেলে ওশান প্যারাডাইসে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী তৃতীয় বাংলাদেশ মেয়র সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৫ জন মেয়রসহ বিভিন্ন সংস্থার ১০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ার কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে কক্সবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয় এই মেয়র সম্মেলনের। বাংলাদেশ মেয়র সামিটের চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মেয়রদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইটেড ইফোটর্স ফর হেলদি সিটিজ’।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ অসংক্রামক রোগে এবং এ মৃত্যুর প্রায় ২২ শতাংশ অকাল। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ভোগে, যা ব্যক্তি,পরিবারকে শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তথা ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তাদের চিকিৎসা ও অকালমৃত্যুর কারণে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করা স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে যে উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তার সুবিধা সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয় সম্মেলনে।

মেয়রদের মতে, নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেয়রদের পরিকল্পনা বাজেট বরাদ্দ, ধূমপানমুক্ত স্থান সৃষ্টি, তামাক বিক্রিতে লাইসেন্সিং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা, হাঁটা, সাইকেল চালানোর ব্যবস্থা করা, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

Mayor-1.jpg

সম্মেলনের প্রথমদিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জসিম উদ্দিন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কক্সবাজার সাব অফিসের প্রধান ডা. জর্জ মার্টিনেজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের মেডিকেল অফিসার (এনসিডি) ডা. সাধনা ভাগওয়াত, দ্য ইউনিয়নের এশিয়া প্যাসিফিকের রিজিওনাল ডিরেক্টর তারা সিং বাম, মেয়র এলায়েন্সের কো-চেয়ারম্যান সাভার পৌরসভার মেয়র আবদুল গণি এবং ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও বাংলাদেশ মেয়র অ্যালায়েন্স ফর হেলথ সিটিজের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ নামে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা অসংক্রামক রোগ ও তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি ও যথাযথ ভূমিকা পালন করছেন।

এশিয়ান প্যাসিফিক সিটিজ এলায়েন্স ফর হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিকেট) দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে মেয়রদের নিয়ে এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। এরকম একটি সম্মেলন ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এমএস