ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মঠবাড়িয়ায় র‌্যাব-বিজিবির গুলিতে নিহত ৫ : মামলার প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় র‌্যাব ও বিজিবির গুলিতে ৫ জন নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

বুধবার বিকেলে তিনি জাগো নিউজকে মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাফা কলেজ কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশীদের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রের চার দিক ঘেরাও করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

এসময় র‌্যাব-বিজিবির গুলিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৫ সমর্থক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২০ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কলেজের প্রধান গেটের সামনের সড়কের উপর (পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া সড়ক)।

নিহতরা হলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা গ্রামের মজিদ হাওলাদারের ছেলে শাহাদাৎ (৩৫),  ও ছাইয়েদুল মৃধার ছেলে কামরুল (২৬), সাফা ইউনিয়নের বুড়িরচর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে সোহেল (২৫) ও গফুর মোল্লার ছেলে বেলাল (৩০) তুষখালী চঞ্চঘাট এলাকার আনোয়ার তালুকদারে ছেলে সোলায়মান (২৫) ।

এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বরিশালেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর বুধবার সকালে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে সাফা কলেজের আশ-পাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষ দর্শী বলেন, নিহত একজনকে তার সঙ্গীরা টেনে হিঁচড়ে মাঠের মধ্য থেকে উত্তর দিকে নিয়ে গেছে।
 
সাফা কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী জিয়াউল বাসেত (সিনিয়র সহকারী সচিব) জানান, সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা ফলাফল পাল্টানোর জন্য আমাকে অবরুদ্ধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগ কর্মীদের বেরিগেট দিয়ে সরে যাওয়ার জন্য বহু অনুরোধ করেও ব্যর্থ হন। পরে তাদের ছত্র ভঙ্গ করতে গুলি চালায়।

র‌্যাব-বিজিবির গুলিতে ধানী সাফায় যারা নিহত হয়েছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগ কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
   
মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস জানান, প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া নৌকা প্রতীকের ৭৪৬টি সীল মারা ব্যালট বাতিল করা হয়। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই ব্যালট বৈধ দাবি করলে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ প্রভাবিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
 
মঠবাড়িয়ার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও হতাহতের কথা নিশ্চিত করতে পারেনি।

পুলিশের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

হাসান মামুন/এমএএস/এবিএস