ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাঙামাটিতে সব ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছে না আ.লীগ-বিএনপি

প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, ২৫ মার্চ ২০১৬

তৃতীয় ধাপে ঘোষিত তফসিলে রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলার মোট ৫০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৯টির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল। তবে এ জেলার সবগুলোতে দলীয় প্রতীক নৌকায় প্রার্থী দিতে পারছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

তাদের অভিযোগ মতে, এ জেলায় প্রায় ইউনিয়নে একচ্ছত্র প্রভাব খাটাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে অসহায় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো। একই পরিস্থিতির কারণে সবগুলো ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকেও প্রার্থী দিতে পারছে না বলে দাবি করেছে অন্য দল বিএনপিও।
 
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবার প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও খোদ জেলার সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই নৌকা প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। এছাড়াও আরও ১৩টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছে না তারা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীও খুঁজে পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

তাদের অভিযোগ অনেকের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের বাধা ও হুমকির মুখে প্রায় ইউনিয়নে তাদের কেউ প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ১৯টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থী নেই।

এদিকে ধানের শীষ প্রতীকেও সবগুলো ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। পাশাপাশি কোনো কোনো ইউনিয়নে অপর আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফও দলীয়ভাবে প্রার্থী দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে জেলায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে অবস্থান না থাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দল আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্রের হুমকিতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে জেলার ৪৯টির মধ্যে ১৯টি ইউনিয়নে আমরা কোনো দলীয় প্রার্থী দিতে পারছি না। ৩০টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে পাঠানো হয়েছে। প্রার্থীদের অনেকে এলাকায় যেতে পারছেন না।

তিনি জানান, সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন বন্দুকভাঙ্গা, বালুখালী, মগবান, জীবতলী, সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন জুরাছড়ি, বনযোগী ছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা, নানিয়ারচর উপজেলার চারটির মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন ঘিলাছড়ি, সাবেক্ষ্যং ও নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি উপজেলার আটটির মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়ন সারবোয়াতলী, বাঘাইছড়ি, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী ও সাজেক এবং বরকল উপজেলার পাঁচটির মধ্যে একটি ইউনিয়ন বড় হরিণায় দলীয় প্রতীক নৌকায় কোনো প্রার্থী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাঙামাটিতে আসন্ন ইউপি নির্বাচন মোটেও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অন্য দল জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, এখানে নির্বাচনে এখন যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে সেটি হলো যেখানে যার জোর সেখানে এলাকা ও কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জয় ছিনতাই করে নেয়া। এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও তাই হবে। তারপরও জেলার লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বিএনপি। বাকি পাঁচটি উপজেলায় অন্য দলগুলোর জোর মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থান না থাকাতে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কাউকে বাধা বা হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, জেএসএস সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। নির্বাচন গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে কাউকে বাধা দেয়া বা কারও কোনো জোর জবরদস্তীর কোনো ক্ষমতা নেই। তাই জেএসএস এর বিরুদ্ধে যদি নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী হওয়ার বাধা বা হুমকি দেয়ার অভিযোগ করা হয়ে থাকে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেএসএসকে বেকায়দায় ফেলতে অসৎ উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ করা হতে পারে মন্তব্য করেন তিনি।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/এমএস