ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৮ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির বক্তব্য

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানের মামলা

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২৩

কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির বক্তব্যের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল। মালা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশিষ শর্মা মামলার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

কায়সারুল হক জুয়েল (৩৯) কক্সবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড নতুন বাহারছড়ার বাসিন্দা ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মোজাম্মেল হকের ছোট ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

আর ইমরুল কায়েস চৌধুরী (৩৯) উখিয়ার হলদিয়াপালং রুমখা চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী ও জেলা পরিষদের নারী সদস্য আশরাফ জাহান চৌধুরী কাজলের ছেলে। তারা কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ তারাবনিয়ার ছড়াস্থ চৌধুরী ভবনে বাস করেন।

মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান জুয়েল লিখেন, বিগত ২০১৯ সালের কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীককে ইভিএম পদ্ধতিতে বিপুল ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এরপর থেকে সুনামের সঙ্গে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণের উন্নয়নে অবদান রাখছি।

জুয়েলের দাবি, চলতি বছরের ৬ জুন সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরশহরের রুমালিয়ার ছড়ায় পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কায়সারুল হক জুয়েলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে গিয়ে আটটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করেছিলাম।’ এ সময় জুয়েলকে অকৃতজ্ঞ বলেও সম্বোধন করেন।

জুয়েল আরও উল্লেখ করেন, ইমরুলের বক্তব্যটি দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে আমার যেমন সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে তেমনি সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখনো সরকারির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী ইমরুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মামলার বিষয়ে জুয়েল বলেন, ইমরুল কায়েসের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর। বর্তমান সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণাত্মক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্যে আমার রাজনৈতিক, সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই আমি মামলাটি করেছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, ইমরুল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেই ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার হাতে নির্যাতিত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষক, শ্রমিক এবং দিনমজুর। জুয়েলদের বিরোধিতা করতে গিয়ে ইমরুলের দেওয়া বক্তব্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস