ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অটোরিকশার যাতাকলে পিষ্ট বরিশালবাসী

প্রকাশিত: ০৩:২৬ এএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

বরিশাল নগরীতে বৈধ-অবৈধ প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এতে যানজটে দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে লোডশেডিংও।

অটোরিকশার কারণে বিদ্যুৎ সরবারহ ঘাটতি হওয়ায় বাড়তি লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। নগরীর প্রায় ১৩ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রতিদিনই লোডশেডিং নামক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আর এ ভোগান্তি যেন দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলোর জন্য বিদ্যুৎ অপচয়ই শুধু হচ্ছে না, দুর্ঘটনাও ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন পরবর্তী নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে সিটি বাস চালু করা হয়। এর পরপরই চালু হয় মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আগে যারা টেম্পু চালাতো তারা বর্তমানে ডিজেলচালিত মাহেন্দ্র টেম্পু চালাচ্ছেন। কিন্তু অটোরিকশা চালাচ্ছেন রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকজন। ১২ বছরের শিশুও অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরেছে। আর তার উপর নির্ভর করে চারজনের স্থলে ৮ জন যাত্রী একটি অটোরিকশায় উঠে গন্তব্যে যাচ্ছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রশিক্ষণ না নিয়েই অটোরিকশার চালক হওয়ায় তারা সড়কের কোন নিয়মকানুন না জানায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ৫ বছরে অটোরিকশার দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ থেকে ২০ চালক। অটোরিকশায় বিদ্যুতের চার্জের কারণে ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হওয়ার মতোও ঘটনা ঘটেছে।

আরও জানা গেছে, প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন ও বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালের আমলে সিটি কর্পোরেশন থেকে ২ হাজার ৬শ’ অটোরিকশাকে লাইসেন্স দেয়া হলেও বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অটোরিকশা নগর দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব চালকের সড়কে যানবাহন চালানোর কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বৈধ-অবৈধ অটোরিকশাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকেও।

জানা গেছে, যানজটের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ। একটি অটোরিকশার ব্যাটারিতে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেয়া হয়। এছাড়া দুপুরে আবারও একটি ব্যাটারিতে ৩ ঘণ্টা চার্জ দেয়া হয়। এতে একটি অটোরিকশার ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ ইউনিট। সাড়ে চার হাজার অটোরিকশায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে সাড়ে ৬৭ হাজার ইউনিট। এ অটোরিকশা যত পুরনো হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহার তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশালের ১৩ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পিক আওয়ারে ৯০ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ বরিশাল গ্রিডে আসলেও অটোরিকশার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বরিশাল গ্রিড সূত্রে জানা যায়, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ অটোরিকশায় ব্যবহার হয় তা কমে গেলে বরিশাল নগরীতে কোন লোডশেডিং থাকবে না। আর লোডশেডিং এর কারণে সিটি কর্পোরেশন থেকে উচ্চ আদালত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে নগরীতে লোডশেডিং থাকবে না বলে গ্রিডের একাধিক কর্মকর্তার দাবি।

তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ অটোরিকশায় ব্যবহার করা হয় তার বিলও পান না ওজোপাডিকো। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অটোরিকশার গ্যারেজের আড়ালে ব্যাটারি চার্জ দিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করছে বছরের পর বছর ধরে। তাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে অটোরিকশার চালকরা দাবি করেছেন, বেশি বিদ্যুৎ ব্যয় হলেও তাতে লোকজনের সুবিধা হয়েছে। রিকশা চালাতে খাটনি লাগে। অসুখে পরতে হয়। দিনের পর দিন বিছানায় পরে থাকা লাগে। অটোরিকশা চালাতে খাটনি নেই। দূষণও নেই।

নগরী থেকে অটোরিকশা তুলে দেয়ার ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হান জানান, অটোরিকশা তুলে দেয়ার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ আমাদের কাছে রয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নগরী থেকে সকল অটোরিকশা তুলে দেয়া হবে।

এসএস/এবিএস