ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু

প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু ও মোম আহরণ মৌসুম । ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ায় এই মৌসুম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। বনবিভাগ এ বছর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্র ৯শ ১০ কুইন্টাল এবং মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্র প্রায় ২শ ৩৭ কুইন্টাল নির্ধারণ করেছে ।

অন্যদিকে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে এ বছর মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১২১.৫০ কুইন্টাল ও মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০.৭৮ কুইন্টাল। প্রতি কুইন্টাল মধু আহরণের জন্য বন বিভাগকে ৭৫০ টাকা রাজস্ব প্রদান করতে হবে। সে হিসেবে কেজি প্রতি রাজস্ব দিতে হবে সাড়ে সাত টাকা। তবে সনাতন পদ্ধতিতে এ মধু সংগ্রহের কারণে মধুর গুণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেক মনে করেন সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহের কারণে মৌচাক ও মৌমাছি উভয়েরই ব্যাপক ক্ষতি হয়।
 
এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুর ইসলাম বলেন, এখনও সুন্দরবনের মৌয়ালরা সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করে। প্রতি বছর এ মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ধোঁয়া ও আগুন ব্যবহারের কারণে মৌচাকের ক্ষতিসহ অনেক মৌমাছি মারা যায়।

তিনি জানান, সুন্দরবনের মৌমাছিসহ মধু সম্পদ বাঁচাতে ইতোপূর্বে শরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জের ১শত মৌয়ালকে মধু সংগ্রহের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ফলে মৌয়ালরা এখন সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি হাইজেনিক পদ্ধতিতেও সুন্দরবন থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করছে। ফলে মধু ও মোম সংগ্রহের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে।
      
এদিকে সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহের কারণে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে থেকে আহরিত মধুর বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে সুন্দরবনের মধু আহরণের কারণে মধু সম্পদ হুমকির মুখে রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সুন্দরবনের মধু ও মোম সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে মৌয়ালদের সঙ্গে কথা হলে জানা গেছে, খড়, গাছের ডাল-পাতা বা কাপড়ে আগুন ধরিয়ে ধোঁয়া দিয়ে মৌচাক থেকে মাছি তাড়ানো হয়। এসময় মৌয়ালরা মৌ মাছির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাথা ও চোখ-মুখে গামছা বা কাপড় পেচিয়ে নেয়। খুব দ্রুতই মৌচাক কেটে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ করে। যার ফলে মৌমাছি মরে যাওয়া এবং মাছির কামড় খাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

মৌয়ালরা আরো জানান, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণ মৌচাক রয়েছে। বৃহৎ আকৃতির এসব মৌচাকে প্রচুর পরিমাণ মধু পাওয়া যায়। সুন্দরবনের খসলী ও গেওয়া গাছ যে অঞ্চলে বেশি সেখানে মৌচাকের সংখ্যাও বেশি। খসলী এবং গেওয়া গাছ থেকে প্রাপ্ত মধু খুবই মিষ্টি এবং মানেও উৎকৃষ্ট হয়।

তারা জানান, সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা এখনও আগুন জ্বালিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে যার ফলে প্রতি বছরই প্রচুর মৌমাছি মারা যায়। নিয়ম অনুযায়ী আগুনের ধোঁয়া দিয়ে চাক থেকে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় মৌয়ালরা মৌচাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার কারণে প্রচুর মৌমাছি মারা যায়।

এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান জানান, মৌয়ালরা সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহের সময় আগুন দিয়ে চাক না পুড়িয়ে শুধু ধোয়া দিয়ে মাছি তাড়িয়ে অথবা আগুনের পরিবর্তে ধোয়া তৈরির যন্ত্রের ব্যবহার করে তাহলে মৌচাকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এছাড়া ধোঁয়া তৈরি করে মাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহ করে বিসুদ্ধ পাত্রে আহরিত মধু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মধু আহরণের কাজে নিয়োজিত মৌয়ালরা চাক থেকে মাছি তাড়ানোর সময় গামছার পরিবর্তে মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে মৌমাছির আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন। ফলে অনাকাঙ্খিত ভাবে মৌচাকে আগুন লাগা ও আগুনে মৌমাছি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা কমে আসবে।

এসকেডি/পিআর