ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গমের আবাদে পোকা : শরীয়তপুরের কৃষক হতাশ

প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্তৃক ধার্যকৃত লক্ষমাত্রা অর্জিত হলেও গম চাষে কৃষকদের মনে হতাশা নেমে এসেছে। পোকার আক্রমণে ফলন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কম হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মনে হতাশা নেমে এসেছে। গত বছর গমের ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর কৃষকরা আরও বেশি ফলন পাওয়ার আশায় গম চাষে বিনিয়োগ বেশি করেছিলেন। কিন্তু, হঠাৎ করে পোকার আক্রমণে আবাদি গমের ফলন নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৪ হাজার ৪৯৮ হেক্টর জমি গম চাষের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮২০ হেক্টর, জাজিরা উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর, নড়িয়া উপজেলায় ২৬১ হেক্টর, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৬৪০ হেক্টর, ডামুড্যা উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ৬২৯ হেক্টর জমিতে গমের চাষ করা হয়।

সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের দাত্রা গ্রামের গমচাষি গগন খাঁ বলেন, এ বছর আমি এক একর জমিতে গম চাষ করেছি। গত বছর গমের চাষ করতে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও গমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু এ বছর গত বছরের তুলনায় গমের ফলন কম হয়েছে। এ বছর আমরা গম নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছি।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরপায়াতলী গ্রামের গমচাষি আব্দুস ছালাম বেপারি বলেন, এ বছর গমের ফলন মোটামুটি হয়েছে। এ বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না থাকলেও পোকার আক্রমণে আমাদের অনেক গমের ফলন নষ্ট হয়ে গেছে।

একই গ্রামের গমচাষি ইয়াসিন সরদার বলেন, পোঁকার আক্রমণের কারণে খরচের টাকাও উঠবে না। ভাবছি ব্যাংকের লোন কীভাবে পরিশোধ করবো।

Gom-Pic

আরেক গমচাষি লিয়াকত আলী বলেন, গত বছর গমের চাষ ভালো হয়েছিল। আমরা কৃষকরা ভালো দামও পেয়েছিলাম। এ বছর গমের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু পোকার আক্রমণে গম নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের কোনো লোক জনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।

নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের ঠাকুরকান্দি গ্রামের গমচাষি মো. রুবেল খলিফা বলেন, আমরা গরীব কৃষক। গম চাষ করতে আমাদের অনেক খরচ হয়। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর গমের ফলন ভালো হয়েছে। এবার যদি বাজার মূল্য ঠিকমতো না পাই তাহলে সুদে আনা টাকাও পরিশোধ করতে পারবো না।

গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি গ্রামের গমচাষি রহমান সিকদার বলেন, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি গমের দামও ভালো পাবো।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বছর গমের আবাদ ভালো হয়েছে। গত বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। এ বছর পরিবেশ অনুকূলে থাকায় গমের চাষ ভালো হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু গমের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হলেও আমাদের নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

এমএএস/আরআইপি