ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কচুয়ায় আটক কষ্টি পাথরের মূর্তি নিয়ে ধুম্রজাল

জেলা প্রতিনিধি | চাঁদপুর | প্রকাশিত: ০৩:৪০ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার পলাশপুর এলাকায়  ডিবি পুলিশ কর্তৃক কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তি উদ্ধার এবং আসামি গ্রেফতার নিয়ে নানা ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কচুয়া থানায় এজাহার করা হয়নি। এমনকি ৩৬ ঘণ্টা আটকের পর আসামি মনিন্দ্র কামলাকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।  

শুধুমাত্র দায়সারাভাবে এ ঘটনাটি কচুয়া পুলিশে সাধারণ ডায়রীভুক্ত করা হয়েছে। আর কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটি কচুয়া থানায় সাধারণ ডায়রীভুক্ত প্রেক্ষিতে জব্দ দেখানো হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জাগো নিউজকে জানায়, কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তি উদ্ধার নিয়ে গত ২ এপ্রিল চাঁদপুর গোয়েন্দা শাখার এস আই মো. ফিরোজ আলম ১৯৭৪ইং সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-খ কচুয়া থানায় একটি এজহার দাখিল করেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই কচুয়া থানা পুলিশ এজহারটি আমলে নেইনি। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় আটক শ্রী মনিন্দ্র কামলা (৫৫) পলাশপুর কচুয়াকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। জব্দকৃত কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটির বাজার মূল্য ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আমি সরজমিনে গিয়েছি। তদন্ত চলছে। কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটি কচুয়া থানায় জব্দ করা হয়েছে।
 
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম খলিল জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানা পুলিশ তদন্ত করছে। আবার ডিবি পুলিশও তদন্ত করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিবির তরফ থেকেই বলা হয়েছে অভিযোগটি স্থগিত করতে। অর্থাৎ এজহার না করতে। আর শর্তসাপেক্ষে এ ঘটনায় আটক আসামি শ্রী মনিন্দ্র কামলাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূতিটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
 
এদিকে এ ঘটনায় কে দোষী আর কে দোষী না তা নিয়ে ধু্ম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তাই ব্যাপক তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় ডিবির ওসি জাগো নিউজকে বলেন, ডিবির তরফ থেকে এজহার দাখিল করা হয়েছে। এখন বিষয়টি কচুয়া থানা পুলিশ দেখছে।

এ ব্যাপারে পলাশপুর কালি মন্দিরের জমি দাতা দাবিদার সাবেক কমিশনার পলাশপুর গ্রামের অধিবাসী নিধু রাম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কখনো আমাদের কালী মন্দিরে শিব পূজা করিনি। অতএব এ মন্দিরে শিবলিঙ্গ উদ্ধারের বিষয়টি হাস্যকর।

মন্দিরের সেবক ধীরেন্দ্র কামলা (ধীরু) জাগো নিউজকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে মনিন্দ্র কামলা ও তার স্ত্রী রাতের বেলায় এসে শিবলিঙ্গটি মন্দিরের ভিতরে কালী মূর্তির পিছনে রেখে যায়, আর দিনের বেলায় নিয়ে তার পূজা করে।

মন্দিরের পাশের ফুল ব্যবসায়ী পলাশপুর গ্রামের অধিবাসী সঞ্জয় সরকার জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের কালী মন্দিরে কোনোদিন শিব পূজা হয়েছে বলে আমার জানা নেই, তবে গত শুক্রবার রাতে ডিবি পুলিশ মনিন্দ্র কামলাকে একটি কষ্টি পাথরের শিব মূর্তি সহকারে গ্রেফতার করেছে। সে সময়ে পুলিশের একটি কাগজে আমি স্বাক্ষর দিয়েছি।

এদিকে শিবলিঙ্গ মূর্তিটি নিয়ে একটি প্রভাবশালী পক্ষ জোর লবিং করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কচুয়ার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে কেনো এ জন্য সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে হুমকি-ধমকিও দিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে যাতে বেশি কথা না বলা হয়, সে জন্য এলাকাবাসীকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/পিআর