ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাহাড়তলীতে পোশাক শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলি, আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশিত: ০৬:১৭ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পোষাক শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলি ও লাটি চার্জের ঘটনায় মহিলাসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর পাহাড়তলী থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মিজান নামের এক শ্রমিক জানান, বুধবার দিবাগত রাতে গাউছিয়া ফ্যাশন নামের একটি পোষাক কারখানার শ্রমিক সজিব কে কারখানা থেকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিষয়টি জানতে বৃহস্পতিবার সকালে অন্যান্য শ্রমিকরা পাহাড়তলী থানায় আসে।  আটক শ্রমিককে ছাড়িয়ে নিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের। এক পর্যায়ে থানা ঘেরাও করে শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে লাটি চার্জ  ও গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। এতে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পোষাক শ্রমিক আহত হয়। এঘটনার জেরে শ্রমিকরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

তবে গুলিবর্ষণ ও লাঠি চার্জের কথা অস্বীকার করেছেন পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিৎ বড়ূয়া। তিনি বলেন, তাদের দেনা পাওনা নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে ঝামেলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন শ্রমিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল তাকে ছেড়েও দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক চলছে।
 
পোষাক শ্রমিক ফাহিমা ও মুক্তা জানান, গাউছিয়া ফ্যাশনে কাজ করেন তারা। প্রায়ই মালিক পক্ষ তাদের বেতন ভাতাসহ পাওনা নিয়ে ঝামেলা করে।  আজ (বৃহস্পতিবার) তাদের বেতন ভাতা দেয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ বুধবার রাতে সজিব নামের নামের এক পোষাক শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আমরা সজিবকে দেখতে থানায় আসলে পুলিশ আমাদের উপর চড়াও হয় এবং বেপরোয়া গুলি বর্ষণ ও লাটি চার্জ করে।

এদিকে এ ঘটনায় আহতদেরকে স্থানীয় একটি ক্লিনিক ও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অনেককে পোষাক কারখানার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহতদের কয়েকজন হলেন, নার্গিস (২০), হাছিনা (২২), জাহাঙ্গীর (২৭),শামীম (৩০), মুক্তার (৩০), রুমা (২২), কবির (২৬), আকলিমা (২৮), ছালমা (৩৪), রহিম (৩০) বাকিদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
 
এ ঘটনার পর গাউসিয়া পোষাক কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত  দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত মালিক শ্রমিক ও পুলিশ ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক চলছিল। তবে তখনো আটক আসিফকে ছেড়ে দেয়া হয়নি বলে জানান পোষাক শ্রমিক মিজান।
 
ঘটনার পর সরেজমিনে ওই পোষাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের কেউ রাস্তায় কেউ কারখানার ভিতরে অবস্থান করছেন। তাছাড়া কারখানার ভেতরে ও বাইরে  কাঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

জীবন মুছা/এসকেডি/পিআর