ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বৃষ্টিতে যশোরে জেঁকে বসেছে শীত

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪

যশোরে অব্যাহত শীতের মধ্যে দিনভর বৃষ্টিপাতে আরও জেঁকে বসেছে শীত। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও বৃষ্টির দাপটে বেড়েছে দুর্ভোগ আর কষ্টের মাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যশোরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বইছে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। যা পরে মাঝারি বৃষ্টিপাতে রূপ নেয়। চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এরপর দিনভর থেমে থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে এই বৃষ্টি শীতের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ।

তাপমাত্রা খুব একটা নিচে না নামলেও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সারাদিনে দেখা মেলেনি সূর্যের। আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন শীত আরও কয়েক দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে দুই দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় যশোরের ওপর দিয়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শীতের মধ্যে বৃষ্টি নামে। কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে এই বৃষ্টি যেন শীতের দাপটকে বাড়িয়েছে দ্বিগুণ।

পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে পথে-ঘাটে থাকা মানুষগুলো দুর্বিষহ দিন পার করছেন। যশোরে রেলস্টেশন ও ফুটপাতগুলোতে ছিন্নমূল মানুষকে কম্বল মুড়ি দিয়ে থাকতে দেখা গেছে। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়, হাত-পায়ের মোজা, টুপি, মাফলার ও জ্যাকেটের চাহিদা বেড়েছে।

শামসুর রহমান নামের এক এনজিও কর্মকর্তা বলেন, ‘একে তো তীব্র শীত, তার ওপর আবার বৃষ্টি। দুয়ে মিলে স্বাভাবিক কাজকর্ম যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনা দুর্ভোগ, অফিস যাতায়াতে দুর্ভোগ।’

শহরের মুজিব সড়কে কথা হয় ইজিবাইক চালক নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভোরে শীতের সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে বাতাস তো আছেই। বৃষ্টি ও শীতের কারণে ইজিবাইক চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

মিজানুর রহমান নামের এক পথচারী বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। এরমধ্যে বৃষ্টিতে আজ শীতের তীব্রতা একটু বেশি। হাত-পা শীতল হয়ে গেছে। গরম কাপড়ের সঙ্গে হাতমোজা, পা-মোজা পরলেও স্বস্তি মিলছে না।’

আক্কাস আলী নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘তিনটি শার্ট, দুটি প্যান্ট, মোজা পরেছি। মাফলার ও মাথায় টুপি দিয়ে কান-মুখ ঢেকে রেখেছি। এরপরও শীতে কাবু হয়ে যাচ্ছি। একটি ট্রিপ দিলে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। পেটের দায়ে এত শীতের মধ্যেও বের হতে হয়েছে।’

রিকশাচালক কাদের আলী বলেন, ‘গ্যালোবারের (গতবার) চাইতি এবেড্ডা শীতটা বেশি মনে হচ্ছে। তার মদ্দি (মধ্যে) বৃষ্টিতি আবার শীত আট্টু বাড়ায়ে দি গেলো। ভাড়া মারবানি কিয়েইরে (কী করে) আজকে, তা কবেন কিডা (কে)।’

শহরের রেলস্টেশন এলাকার মাছবিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বরপের মতো ঠান্ডা। ঘেরে লাবলিই (নামলেই) জমে যাওয়ার মতন অবস্তা। তাই এক-দুদিন পরপর মাছ ধরতি যাচ্চি। ডেলি (প্রতিদিন) ঘেরে লাবলি (নামলে) ঠান্ডায় মইরে যাতি হবে।’

এদিকে, শীতের প্রকোপে রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে চাপ বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ৭০-৮০ শতাংশই শীতজনিত কারণে অসুস্থ।

জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, জেলার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৬১ হাজার কম্বল বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে ৫৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৫ হাজার কম্বলের চাহিদার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম