বায়োস্কোপে মেতেছেন কারুশিল্প মেলার দর্শনার্থীরা
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বায়োস্কোপ। বিভিন্ন মেলা উপলক্ষে কালেভদ্রে বায়োস্কোপের দেখা মেলে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে দেখা মিলেছে বায়োস্কোপের। সেজন্য মেলায় আসা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই বায়োস্কোপ।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সোনারগাঁ জাদুঘরে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বায়োস্কোপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। বর্তমান প্রজন্মের দর্শনার্থীরা আগ্রহ নিয়ে বায়োস্কোপ দেখছেন। আর প্রবীণরা বায়োস্কোপ দেখার মাধ্যমে শৈশবের স্মৃতিচারণ করছেন।
পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে মেলায় এসেছেন আবু আলেম দিপু নামের এক ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবছরই আমার এ মেলায় আসা হয়। যতোবারই মেলায় আসা হয় বায়োস্কোপ না দেখে যাই না। আমাদের শৈশবকালে টিভি, ইন্টারনেট ছিল না। তখন বায়োস্কোপকেই টিভি মনে করতাম। এখানে এলে এখনো সেই স্মৃতি মনে পড়ে। সেই সঙ্গে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যের সঙ্গে বাচ্চাদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে আসা।

রিজোয়ান নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, বায়োস্কোপে রঙ্গিন রঙ্গিন অনেক ছবি দেখা যায়। যা দেখে আমার খুব আনন্দ লেগেছে।
ইশিকা জাহান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, গ্রাম বাংলার এ ঐতিহ্যকে শহরে এখন আর দেখা যায় না। ছোটবেলায় আমাদের বাবা-দাদুর কাছে বায়োস্কোপের গল্প শুনেছি, মেলায় নিজ চোখে দেখলাম। বায়োস্কোপ দেখে যে নির্মল আনন্দ পেলাম তা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব না।

বায়োস্কোপ দেখাতে রাজশাহী থেকে সোনারগাঁ জাদুঘরে আসা আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছরের বেশি সময় ধরে বায়োস্কোপ দেখাই। আগে একটা ডুগডুগি বাজালেই ৮-১০ বাড়ির ছেলেমেয়ে ছুটে আসতো। তখন চাল বা পয়সা দিয়ে মানুষ বায়োস্কোপ দেখতো। সামান্য এ রোজগার দিয়েই এখন সংসার চলে। আধুনিক যুগে মানুষের বায়োস্কোপ দেখার আগ্রহ একদমই নেই। এ মেলায় টানা ১০ বছর বায়োস্কোপ দেখাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এবারের মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ ১০০টি স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রথিতদশা ৬৪ জন কারুশিল্পী সক্রিয়ভাবে মেলায় অংশ নেবেন। এছাড়া ১৭ জেলার কারুশিল্পীগণ মেলায় অংশ নিবেন। মেলায় বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে কারুশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে। মাসব্যাপী লোকজ উৎসব প্রতিদিনের সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান লোকজ মঞ্চে বাউলগান, পালাগান, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালীগান, জারি-সারিগান, হাছন রাজারগান, শাহ আব্দুল করিমের গান, লালন সঙ্গীত, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ নৃত্যনাট্য,গ্রামীণ খেলা, লাঠিখেলা, মুড়ি ওড়ানো, চর্যাগান, লোকগল্প বলা ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/এনআইবি/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বিকাশের এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, চিনে ফেলায় শরীরে আগুন
- ২ দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে মিছিল, জানেন না জামায়াতের প্রার্থী
- ৩ দিপু হত্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এরশাদ, মোবাইল উদ্ধার
- ৪ সিরাজগঞ্জে নবজাতক শিশুকে গলা কেটে হত্যা, আত্মগোপনে মা
- ৫ এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ভৈরবে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা