ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বন্ধ হওয়ার পথে গাবখান চ্যানেল

প্রকাশিত: ০৩:৩৬ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৬

নাব্যতা সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম ঝালকাঠির ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গাবখান চ্যানেল। আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাবখান চ্যানেলের সুগন্ধা মোহনা এবং পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর উত্তর প্রান্তে চর জেগে ওঠায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নাব্য সংকট।

অন্যদিকে প্রশস্ততা ২৪০ ফুট থেকে কমে কোথাও ১২০ ফুট, কোথাও ১০০ ফুটে নেমে এসেছে। জাহাজ চলাচলের জন্য ১২-১৫ ফুট পানি প্রয়োজন হলেও ভাটার সময় চ্যানেলে সর্বোচ্চ ৭ ফুট এবং জোয়ারের সময় ৯-১০ ফুট পানি থাকে। নাব্যতা কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় সুগন্ধা এবং সন্ধ্যা নদীতে। মধ্য ব্রিটিশ যুগে চালুর পর থেকে এ চ্যানেলটি একমুখী নৌপথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের কাউখালী প্রান্তে পাইলট স্টেশন স্থাপন করে নৌ-সংকেতের মাধ্যমে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি নৌযান চালকরা অভিযোগ করেছেন, ওয়ানওয়ে নৌপথ হলেও সে নিয়ম কেউ মানছে না।

বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীবাহী জাহাজ চালক আতাউর রহমান জানান, ঝালকাঠি প্রান্ত থেকে চ্যানেলে ঢুকতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। সারেঙ্গল, শেখেরহাট, মাজার পয়েন্টসহ ৪টি টার্নিং পয়েন্ট খুবই বিপজ্জনক। এ কারণে খনন এবং প্রশস্ততা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথ না থাকায় তারা ঝুঁকি নিয়েই জাহাজ চালাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য মো. ইউনুস জানান, গাবখান চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সুন্দরবন ও বরগুনা উপকূল হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হবে। এতে সময় এবং পরিবহন ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

মো. ইউনুস বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ গাবখান চ্যানেল থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু চ্যানেলটির চর কাটতে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ চ্যানেল দিয়ে এখন ১ হাজার টনের বেশি বোঝাই কোনো নৌযান চলাচল করতে পারছে না।’

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ লাখ ঘন মিটার চর খনন করা হয়। তার আগে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২ লাখ ঘন মিটার খনন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘চ্যানেলটির নাব্য সংকট দূর করতে এবং প্রশস্ততা বাড়াতে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন। যার জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় জেলা প্রশাসক সম্মেলনে গাবখান চ্যানেলটির চর খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য উল্লেখ করেছি এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছি।

এসএস/পিআর