ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সড়কে ময়লা ফেলে হরিজনদের বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

যশোরে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হরিজন সম্প্রদায়। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে শহরের চিত্রামোড়ের পুরাতন পৌরসভা হরিজন কলোনির বাসিন্দারা এই বিক্ষোভ করেন।

এ সময় কলোনির শতাধিক হরিজন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পৌর হেরিটেজ মার্কেটের সামনের সড়কে ময়লা ফেলে ও ময়লা পরিবহনের ভ্যান রেখে বিক্ষোভ করেন। ব্যস্ততম সড়কে অবরোধ করায় দুইপাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ কলোনিতে বিদ্যুত সংযোগ চালু করে দিলে পৌনে এক ঘণ্টা চলা এই অবরোধ-বিক্ষোভ তুলে নেন তারা।

জানা গেছে, যশোরে হরিজনদের কাঁধে এখন পাঁচ কোটি টাকার বকেয়া বিলের বোঝা। যশোর পৌর কর্মকর্তারা বলছেন এখন থেকে হরিজনদের বিদ্যুৎ বিলের দায় আর নেবে না পৌরসভা। আবার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ তাদের বকেয়া প্রায় ৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হরিজনপল্লীতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয় তারা। এরপর রাত ৮টা পর্যন্ত তারা বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ তুলে নেন তারা।

পৌরসভা ও হরিজন সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে যশোরে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনের জীবন জীবিকা অনেকটাই পৌরকর্তৃপক্ষ দেখভাল করে আসছে। বিশেষ করে তাদের কাজ, বেতন বা সম্মানি, আবাসন সবই। যশোরের ৩টি হরিজন পল্লির (ডোম সুইপার) লোকজনের বিদ্যুৎ বিল বহন করে আসছিল পৌর কর্তৃপক্ষ।

২০০৭ সাল পর্যন্ত যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ হরিজন পল্লির লোকজনের বিদ্যুৎ বিল বহন করেছে। এর মধ্যে যশোরের পুরাতন পৌরসভা ভবনের সামনে, আরএন রোড তালতলা পিকআপ স্ট্যান্ডের পাশে এবং রেল রোডের পাশের হরিজন পল্লিতে পৌরসভার নামে ১টি করে যে ৩টি মিটার দেওয়া রয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে ৫ কোটি টাকা। সরকারি উদ্যোগে ২০০৭ সালে কিছু পরিমাণ টাকা পরিশোধ করে পৌরসভা। এরপর থেকে ওই ৩টি পল্লির বিল বকেয়া পড়ে আছে। পরিশোধের ব্যাপারে বার বার তাগিদ দেওয়া হলেও অর্থ সংকটের কারণে পৌরসভা পরিশোধ করতে পারেনি। দিন দিন বকেয়ার পাল্লা আরও ভারি হচ্ছে। আবার পৌরসভা এখন থেকে আর দায় নিতেও চাচ্ছে না। পৌরসভার নামে না রেখে হরিজন পল্লির লোকজনের পরিবার প্রতি প্রিপেইড মিটার দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে পৌরকর্তৃপক্ষ। এ কারণে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে ওজোপাডিকো যশোর মাঠে নেমেছে বকেয়া আদায় ও প্রিপেইড মিটার সংযোগ দিতে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সড়কে ময়লা ফেলে হরিজনদের বিক্ষোভ

যশোর পৌরসভা হরিজন সমিতির সভাপতি মতি লাল বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে তাদের বাপ দাদারা বসবাস করে আসছেন। তবে কখনও তাদের বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়নি। প্রিপেইড মিটার দেওয়া মানে তাদের বিদ্যুৎ বিল আগে দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। পৌরসভা তাদের মাত্র ৩ হাজার টাকা করে বেতন দেয়। তা দিয়ে কী হয়। বছরের পর বছর পৌরকর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে তামাশা করে আসছে। বেতন ভাতা না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ বিল তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা বড় অমানবিক বিষয়। শুনছি কয়েক কোটি টাকার বকেয়া বিল চাপবে। এটাতে তারা শঙ্কিত। বিল দিলে দেবে পৌরসভা। এ নিয়ে কয়েকবার পৌর মেয়রের সঙ্গে তারা কথাও বলেছেন। এখানে প্রিপেইড মিটার লাগানো যাবে না, সংযোগ বিচ্ছিন্নও করা যাবে না।

যশোর ওজোপাডিকোর অভিযানিক অফিসার সহকারী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা কিরণ জানিয়েছেন, পৌরসভা দিনের পর দিন বিল পরিশোধের নামে তালবাহানা করে চলেছে। বিশেষ করে হরিজন পল্লির ৩টি মিটারের ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে পৌরকর্তৃপক্ষ। সময় নিলেও কার্যকর করছে না। আর হরিজনদের মুখোমুখি করছে বিদ্যুৎ বিভাগকে।

এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার প্রকৌশলী কামাল আহমেদ বলেন, এখন থেকে হরিজন পল্লির বিদ্যুৎ বিলের দায় পৌরসভা নেবে না। তারা ব্যয় করলে তারা বিল দেবে। সেখানে নতুন করে নামে নামে প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। হরিজনদের কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট বেতন দেওয়া হয়। বাইরে কাজ করেও তারা উপার্জন করেন। কাজেই তাদের যথেচ্ছ বিদ্যুৎ ব্যবহারের টাকা আর বহন করবে না পৌরসভা। আপাতত তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। হরিজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধান করা হবে।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম