ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৬ মাস ধরে বন্ধ কলেরার স্যালাইন সরবরাহ

প্রকাশিত: ০৫:৫৫ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৬

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গত ৬ মাস ধরে কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ নেই। তাই এই গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। শুধু স্যালাইনই নয়, নেই ওষুধও।
Jhalkhathi
এমনকি শিশুদের স্যালাইন দেয়ার জন্য ক্যানোলা পর্যন্ত বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে রোগীদের অভিযোগ। তবে ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে শুধু খাবার স্যালাইন। তাও পর্যাপ্ত না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া ওয়ার্ডের আয়া ভারতীর পরিবর্তে অবৈধ চুক্তিতে কাজ করে রাধা কৃষ্ণ। রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে রাধা কৃষ্ণের নামে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪ টা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রবেশ করতেই বাইরে থেকে কলেরা স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে এলো নলছিটির সারদল গ্রামের মো. মনির হোসেন। কার জন্য এ স্যালাইন নিয়ে এলেন জানতে চাইলে বলেন, আমার ৫ মাসের শিশু কন্যা মুনিরা আক্তারের জন্য। স্যালাইনের সঙ্গে বাইরে থেকে কি কি ওষুধ এনেছেন, কত টাকার ওষুধ, ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে কি ওষুধ দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখান থেকে কোনো ওষুধ দেয়নি। বাইরে থেকে স্যালাইনের সঙ্গে জিংক-বি, রোজিথ ও ফ্লামিডসহ প্রায় ৩শ` টাকার ওষুধ কিনে এনেছি। এ সময় কর্তব্যরত নার্সের দেয়া স্লিপ দেখতে চাইলে নার্স মঙ্গলা দাস এগিয়ে এসে বলেন, আপনারা এ স্লিপের ছবি নিচ্ছেন কেন? সিভিল সার্জন স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৬/৭ মাস ধরে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ নেই। এসব ওষুধ আপাতত সরবরাহ না করায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুই করার নেই। এরপর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি বাউকাঠি গ্রামের রুস্তুম আলী হাওলাদারের কন্যা যুথি (২৫) জানান, সকালে ভর্তি হওয়ার পর বাইরে থেকে ৩টি স্যালাইন আনতে হয়েছে।

তারুলী গ্রামের শ্যামল হালদারের স্ত্রী আরতি রানী হালদার, বারৈগাতি গ্রামের মীর আবুল হোসেনের ছেলে পারভেজ, ব্রাক মোড় এলাকার ২ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ, পোনাবারিয়া গ্রামের আব্দুর রব (৪৫), আগরবাড়ি গ্রামের রুস্তুম সিকদারের মেয়ে বিথি (১১), মধিপুর এলাকার সিমা (৩০), পোনাবালিয়া গ্রামের রুনু বেগম (৪৭) গতকাল পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারা ও তাদের স্বজনরা জানান, এখানে কোনো স্যালাইন ওষুধ নেই। এলেই স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয় বাইরে থেকে স্যালাইন ও ওষুধ কিনে আনার জন্য। এসব স্লিপে লেখা ওষুধগুলো হচ্ছে সিরাপ রোজিথ, জিংক-বি, ফ্লামিড, ইনজেকশন সি/এস ৫০০ সিসি, আইভি ক্যানোলা ২৪ সাইজ, মাইক্রোপোন-১, জিস্যাপ, এরামাইসিন সিরাপ, বেবী জিংক ইত্যাদি।

Jhalkhathi

এদিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে আসা রোগীদের কাছ থেকে সেবার বিনিময়ে বাড়তি অর্থ আদায় করছে আয়া পরিচয়ধারী রাধা কৃষ্ণ। তিনি চরকুতুবনগর এলাকার যাদব মিস্ত্রির স্ত্রী। এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রোগীদের কাজ করে দেয়ায় বিনিময়ে তারা যা দেয় তাই নিই।

তিনি হাসপাতালের নিয়োগ প্রাপ্ত আয়া কিনা জানতে চাইলে রাধা কৃষ্ণ জানান, আমি ২০১৩ সাল থেকে আয়া ভারতী রানীর পরিবর্তে কাজ করছি। ভারতী রানী এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যায়। আমি তার কাজ করায় আমাকে মাসে ২ হাজার টাকা দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে রাধা বলেন, সিভল সার্জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ, হাসপাতালের প্রধান সহকারী অবগত আছেন। তারাই আমাকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রহিম স্যালাইন সরবরাহ বন্ধের কথা জানিয়ে বলেন, ওষুধ সাপ্লাই আছে বলে আমি জানি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আরএমও’র সঙ্গে কথা বলুন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে আরএমও ডা. গোলাম মোস্তাফার মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তিনি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
        
এসএস/এবিএস