ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝালকাঠিতে প্রকাশ্যে জাটকা-চাপিলা ইলিশ বিক্রি

প্রকাশিত: ০৫:১৬ এএম, ১২ এপ্রিল ২০১৬

বাঙালির সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ আসতে আর কয়েকটা দিন বাকি। তবে এরই মধ্যে ঝালকাঠির বাজারে প্রকাশ্যে চলছে জাটকা ইলিশ বিক্রি। তবে  দাম স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ, নিধন, মজুদ আইনত দণ্ডনীয় থাকলেও অধিক মুনাফার আশায় তার তোয়াক্কা করছেন না জেলেরা। ১০ ইঞ্চি থেকে ছোট সব ইলিশ ও চাপিলা জাটকার আওতায় পড়ছে। বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, জাটকার আওতায় সব ধরনের সাইজের ইলিশই বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও জেলা মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
     
জানা গেছে, বাংলা বছরের শুরুর (নববর্ষ) দিন ইলিশ ও পান্তা খাওয়া বাঙালির চিরচারিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের অন্যান্য দিনগুলো বাদ গেলেও অন্তত এই দিন সকলে চায় তাদের আয়োজনে স্থান পাবে পান্তা-ইলিশ। আর সামুদ্রিক ইলিশ লবণাক্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের মিঠা পানির রূপালি ইলিশের কদর একটু বেশি। তাই বরিশাল অঞ্চলের ইলিশের চাহিদা সারা বছর সারাদেশে। দেশের বাইরেও রয়েছে এর খ্যাতি। আর এ কারণেই ইলিশের বাজার সব সময় চড়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পহেলা বৈশাখের উত্তাপ।

ঝালকাঠির বাইরে থেকেও অনেকে আসছেন পহেলা বৈশাখের অনুসর্গ হয়ে ওঠা পান্তা ইলিশের ইলিশ সংগ্রহ করতে। নববর্ষ যত এগিয়ে আসছে, বাজারে কমছে ইলিশের সরবরাহ। যে পরিমাণ ইলিশ আসছে তার প্রায় সবই মজুদ করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গোপনে বিক্রি করছে জেলেরা। ফলে সরবারহ সংকটের অজুহাতে প্রতিদিনই ইলিশের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে ইলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মৎস্য শ্রমিকরা জানান।

ওমর ফারুক নামে জনৈক এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, আমি জানি এটা জাটকা। সন্ধ্যায় প্রশাসন কঠোর থাকে না বলে বিক্রি করছি। প্রতি কেজিতে ৪/৫টা ওঠে। দাম সাড়ে ৪ শ টাকা। এর বেশি কিছু বলা যাবে না বলেও জানান ওমর ফারুক। মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ১ থেকে দেড় ইঞ্চির চাপিলা বিক্রি করছে। বিক্রেতা বলেন, ৩০/৪০/৫০ টাকা দরে যার কাছ থেকে যে দরে পারি বিক্রি করি। আপনি ছবি তুললেন কিন্তু প্রশাসনের কেউ আসে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়াপুর সংলগ্ন নদী, সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান নদীর বিভিন্ন স্পটে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেলেরা নদীতে জাল ফেলে জাটকা শিকার করছে। পহেলা বৈশাখকে উদযাপনের জন্য গোপনে জেলেদের সঙ্গে চুক্তি করে মাছ আহরণের পর ডাঙা (কূলে) উঠার পরই চাহিদা মতো দাম দিয়ে ক্রয় করছেন ক্রেতারা।  

বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম হওয়া প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা জানান, নদীর মধ্যে ট্রলারেই এবং ডাঙায় উঠানোর পর ইলিশ কেনা-বেচা সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বাজারে ইলিশের আমদানি খুব কম।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জেলেরা প্রকাশ্যে জাটকা ইলিশ নিধন করছে। তারা মৎস্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে জাটকা ধরে বিক্রি করছে।

ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মন্ডল বলেন, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি থেকে সব ছোট ইলিশ ধরা, মজুদ ও সরবরাহ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এ উপলক্ষে মার্চ মাসে ৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং মৎস্য অধিদফতর ১২টি অভিযান পরিচালনা করে ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ২৩ হাজার ৬শ মিটার জাল জব্দ করেছে।   

এসএস/এমএস