মেয়র মান্নানের আরো দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর
ফাইল ছবি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মান্নানকে আরো দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার সকালে গাজীপুরের পৃথক দুইটি আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
গাজীপুরের কোর্ট পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হাই ও মাহবুবা আক্তার পৃথক আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকা থেকে অধ্যাপক এমএ মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ওই রাতে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে আরো ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
পরের দিন তাদের গাজীপুরের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে মেয়র মান্নান গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জয়দেবপুর থানার একটি ফৌজদারি মামলায় মান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র ২০১৫ সালের ১২ মে গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে গৃহীত হওয়ায় ওই বছরের ১৯ অগাস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে মেয়র পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। অধ্যাপক এমএ মান্নান ২২টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর গত ২ মার্চ জামিনে কারামুক্ত হন।
কারা মুক্তির পর গত ৩১ মার্চ এ সাময়িক বহিষ্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এম এ মান্নান। মেয়র মান্নানকে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত ১১ এপ্রিল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। পরে ১৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিমকোর্টের আপিল করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখেন।
অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবর্তমানে গত বছরের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/এআরএ/পিআর