রাস্তায় পাওয়া বৃদ্ধা মায়ের পাশে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা
রাস্তায় পাওয়া হতভাগ্য বৃদ্ধা মা তার দুই সন্তানের পরিবর্তে পেয়েছে আরো অনেক সন্তান। যারা এ বৃদ্ধা মায়ের সেবাযন্তসহ সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রত্যয়। শুধু তাই নয় বৃদ্ধা মায়ের দেয়া পরিচয়ে যদি স্বজনদের না পাওয়া যায় তবে নারায়ণগঞ্জেই হবে মায়ের বাসস্থান এমনটাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ-১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বৃদ্ধা মা নুর জাহান বেগমকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বৃদ্ধা মায়ের জন্য শাড়ি, প্রসাধনী, কম্বলসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যান।
এছাড়াও বৃদ্ধা মায়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, খন্দকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরিন বেগম, নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সহসভানেত্রী আঞ্জুমান আরা আকসির, রিনা আহমেদ, হাসপাতালের সেবিকা পারভীন বানু প্রমুখ।
এদিকে গত সোমবার গণমাধ্যমে ‘রাস্তায় পাওয়া হতভাগ্যদের জননীকে হাসপাতালে ভর্তি করালো চার সন্তান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হাসপাতালে বৃদ্ধা মা নুরু জাহান বেগমে বিছানার পাশে ভিড় করে। এর মাঝে বৃদ্ধা মায়ের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। এসময় বৃদ্ধা মায়ের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুর জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নগদ ৮ হাজার টাকা জেলা সিভিল সার্জনের হাতে তুলে দেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের নার্সদের কাছ থেকে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি করানো চার যুবক মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে দেখা করে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে যে যার কাজে চলে যায়। এবং দুপুরে পালা করে দুইজন খাবার ও ওষুধ খাইয়ে দিয়ে যায়। এছাড়াও সন্ধ্যার পর থেকে ফিরোজা বেগম নামে এক নারী বৃদ্ধা মায়ের পাশে থাকবেন।
বৃদ্ধা মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, ‘ঝড়ের রাতে হয়তো ব্যথা পেয়ে রাস্তায় পরে থাকে। কিংবা তাকে ফেলে দিয়ে যাওয়ার সময় হয়তো ব্যথা পায়। এতে তার ডান হাত নাড়াচাড়া করতে পারছে না। এমনিতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে সেখানে কিছু সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অবস্থার উন্নতি হলে অন্যান্য চিকিৎসা দেয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম বলেন, অসহায় মায়ের জন্য আজকে নারায়ণগঞ্জের অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। এর আগেও অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন। আজকে নারায়ণগঞ্জবাসী প্রমাণ করেছে তারা কতটা মহৎ। আমরা ওই পাষণ্ড সন্তানদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিব যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মাকে তার সন্তানেরা রাস্তায় ফেলে দিতে না পারে। এছাড়া কাশিপুরে রহমতউল্লা মুসলিম ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের কাজ চলছে। যদি বৃদ্ধা মায়ের দেয়া পরিচয়ে যদি স্বজনদের না পাওয়া যায় তবে নারায়ণগঞ্জেই হবে মায়ের বাসস্থান।
এর আগে ২০১৪ সালের ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শাসনগাঁও এলাকায় গর্ভের সন্তান কর্তৃক বস্তায় ভরে ফেলে দিয়ে যায় হাসিনা বেগম নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও ২০১৫ সালে এপিল মাসে পুত্রবধূ ও নাতী মিলে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নাজমা বেগম নামে বৃদ্ধাকে ভর্তি করে চলে যায়।
শাহদাত/এমএএস/এমএস