ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাগরে মাছের আকাল, বাজারেও সঙ্কট

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৬

কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও পহেলা বৈশাখের আগের রাতের ভূমিকম্পের পর থেকে এ অবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে বাজারে সামুদ্রিক মাছের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াগত কারণে মাছের দল বঙ্গোপসাগর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মাছের এ সঙ্কট বলে মনে করেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় প্রায় চার হাজার নৌযান বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে। এসব নৌযান গড়ে প্রতিদিন ৬শ` থেকে ৭শ` টন পর্যন্ত মাছ ধরে থাকে। সাগর থেকে আহরিত মাছ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে এনে ট্রাকযোগে জেলার বাইরে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে নিজস্ব ও স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আড়াইশ` থেকে ৩শ` টন মাছ সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। আরও একশ` টন মাছ প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করা হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে দুইশ` থেকে আড়াইশ` টন মাছ সূর্যের তাপে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুটকি।

কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাটস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে তেমন প্রাণচাঞ্চল্য নেই। নেই ব্যবসায়ীদেরও তেমন আনাগোনা।

robi

নিস্প্রাণ এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অলস সময় পার করা মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন হাজারী জানান, কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন গড়ে ৬শ` থেকে ৭শ` টন মাছ আহরিত হয়। যার অধিকাংশই কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাটস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থল ভূ-খণ্ডে আসে। কিন্তু এক মাস ধরে গড়ে আধা টন মাছও ধরা পড়েনি। এমনকি পহেলা বৈশাখের আগের রাতের ভূমিকম্পের পর থেকে কোনো মাছই সাগর থেকে আসেনি। কক্সবাজার বঙ্গোপসাগর এখন প্রায় মাছশূণ্য হয়ে পড়েছে বলা যায়।

শহরের দরিয়ানগর এলাকার ট্রলার মালিক নজির আলম জানান, সাগরে মাছ ধরা পড়ছে না বলে ট্রলার মালিকেরা গত এক মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। এর ফলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের খুব দুর্দিন যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

robi

কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ জানান, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরা না পড়ায় জেলার লক্ষাধিক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী এখন বেকার সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কী কারণে সাগরে মাছ ধরা পড়ছে না তা জেলে-বহদ্দারদের অজানা বলে তিনি মন্তব্য করেন।   

এদিকে, সাগরে মাছ ধরা না পড়ায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে বাজারে পুকুরের মাছ এবং গরু-মুরগির মাংসের দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

সাগরে মাছ কম ধরার কথা স্বীকার করে কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইনামুল হক বলেন, এতে উদ্বেগের কিছুই নেই। আবহাওয়াগত কারণে মাছের দল ঝাঁক বেধে বঙ্গোপসাগর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মাছের এ সঙ্কট। আবহাওয়া অনুকূল হলে মাছের ঝাঁক আবারো বঙ্গোপসাগরে ফিরে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এসএস/এমএস