ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে শিশু শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় মামলা

প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ০৯ মে ২০১৬

লক্ষ্মীপুরে আলাউদ্দিন (১৩) নামে এক বেকারি শিশু শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নিহতের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এতে বেকারি শ্রমিক সর্দার ইব্রাহীম প্রকাশ শাহজাহানকে প্রধান করে তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত আলাউদ্দিন সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের বিসমিল্লাহ রোডের আনন্দময় পেস্টি সপ বিসমিল্লাহ বেকারিতে কাজ করত। সে দত্তপাড়া ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামের দিনমজুর আবুল কালামের ছেলে।

এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বেকারির মালিক নাছির উদ্দিন রনি ও আল আমিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, চন্দ্রগঞ্জের আনন্দময় পেস্টি সপ বেকারিতে শ্রমিক ইব্রাহীম প্রকাশ শাহজাহান, শামীম, মিজান ও আলাউদ্দিন ৬ মাস ধরে কাজ করে আসছে।এরমধ্যে আলাউদ্দিনকে বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে বেকারি মালিক ও অন্য শ্রমিকরা নির্যাতন করতো। শিশু আলাউদ্দিন ছাড়া অন্য শ্রমিকদের বাড়ি ভোলার জেলার চরফ্যাশনে। রোববার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিনকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ওই বেকারির বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির একটি রডের সঙ্গে গলায় রশি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পর শ্রমিকরা গেইটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রাত ৮টার দিকে ওই বেকারির শ্রমিক সর্দার ইব্রাহীম প্রকাশ শাহজাহান মোবাইল ফোনে বেকারি মালিককে জানান, শ্রমিক আলাউদ্দিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আলাউদ্দিনের বাবা আবুল কালাম বলেন, শনিবার সকালে আলাউদ্দিন বাড়িতে গিয়ে আমাদেরকে বলেছে, বিভিন্ন সময় বেকারির মালিক ও শ্রমিকরা তাকে মারধর করে। পরিকল্পিতভাবে তারা নির্যাতন করে আমার ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। এটি আত্মহত্যা না, তার শরীরের জখমের চিহ্ন রয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় থানায় তিন শ্রমিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. নাসিম মিয়া জানান, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এফএ/আরআইপি

আরও পড়ুন