ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আড়াইহাজারে আ.লীগের ৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

প্রকাশিত: ০৪:০৭ এএম, ১৩ মে ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের এমপির প্রভাব ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপের মুখে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৮টি ইউনিয়নে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থীকে চাপ সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর ফলে আওয়ামী লীগের ৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে চলেছেন।

আড়াইহাজার উপজেলার রিটার্নিং অফিসার মোরশেদ আলম জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৮টি ইউনিয়নে বিএনপিসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। এতে করে নিয়ম অনুযায়ী এসব ইউনিয়নে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচিত হতে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন- উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে মো. আবু তালেব মোল্লা, মাহমুদপুর ইউনিয়নে মো. আমান উল্যাহ, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সাইফুল ইসলাম স্বপন মিয়া।

এছাড়া, উচিৎপুরা ইউনিয়নে মো. নাজিম মোল্লা, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে মো. লাক মিয়া, দুপ্তারা ইউনিয়নে শাহিদা মোশারফ, হাইজাদী ইউনিয়নে মো. আলী হোসেন ও সাতগ্রামে ইউনিয়নে মো. ওয়াদুদ মাহমুদ।

এদিকে, স্থানীয় ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফতেহপুর ইউনিয়নে মো. আব্বাস আলী, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে মো. সামছুল হকের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব ও সমর্থনকারীর নামের ভুল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

দুপ্তারা ইউনিয়নে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শাহিদা মোশারফ। উচিৎপুরা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সাতগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মিরজুল হাসান নয়ন মোল্লা ও হাইজাদী ইউনিয়নে মো. ওসমান গণি, বিশনন্দী ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম (রতন) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এদিকে, খাগকান্দা ইউপিতে বিএনপির বেলায়েত হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউপিতে বিএনপির মাসুম শিকারী, সাতগ্রাম ইউপিতে বিএনপির মিরজুল হাসান নয়ন মোল্লা, হাইজাদী ইউপিতে বিএনপির মো. ওছমান গনি, বিশনন্দী ইউপিতে বিএনপির খাজা মাঈনউদ্দিনকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এর মধ্যে ব্রাহ্মন্দী ও ফতেহপুরে বিএনপির প্রার্থীদের প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীকে এমপি বাবুর লোকজন তুলে নিয়ে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফতেহপুরের বিএনপির প্রার্থী আব্বাস আলী ও ব্রাহ্মন্দীর বিএনপির প্রার্থী সামসুল হক।

সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির মিরজুল হাসান নয়ন মোল্লা জানান, `আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার সমর্থনকারীকে হুমকি ধামকি দেয়াসহ গত কয়েক দিনে আমার বাড়ির পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয়া হয়েছে।`

আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খসরু জানান, `সাংঘাতিকভাবে বিএনপির প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হুমকি দেয়া হয়েছে। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া আরো অনেককে থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি ও অপমান করা হয়েছে।`

আড়াইহাজার উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে ১০টির মধ্যে ৮টিতে নৌকার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, `নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ছত্রছায়ায় আড়াইহাজার উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে চলছে চরম নৈরাজ্য, অবিচার ও পুকুর চুরি।`

শাহাদাত হোসেন/এসএস/পিআর

আরও পড়ুন