সিরাজগঞ্জে আবারো ৪০ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়রা সড়াতলা গ্রামে আবারো নতুন করে ৪০ জন অ্যানথ্রাক্স রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যবিভাগ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই গ্রামের ৪০ জন রোগীকে শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেছে।
পাশাপাশি অ্যানথ্রাক্সে রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে ওই গ্রামের ১৮টি গরু মারা গেছে। আর এ নিয়ে উল্লাপাড়া, কামারখন্দ ও শাহজাদপুরে মোট ৭৬ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এলাকাবাসীরা জানায়, ১৫ দিন আগে উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের সরাতলা গ্রামের আলী আহমেদ, শাহেদ আলী, আকছেদ আলী, হযরত আলী এবং ফজেল প্রামানিকের মোট পাঁচটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গরুগুলোকে জবাই করে কম মূল্যে মাংস ভাগাভাগি করে নেয় গ্রামবাসী।
এক সপ্তাহ পর থেকে এই গরুগুলোর মাংস কাটা, রান্না ও ধোঁয়া মোছার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘাঁ দেখা দেয়। প্রথমে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিলেও তা সেরে উঠেনি। সোমবার কয়েকজন রোগীকে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল চিকিৎসক ওই গ্রামে গিয়ে ৪০ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করে। 
আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন, সরাতলা গ্রামের গরু মালিক আলী আহম্মদ (৫০), শাহেদ আলী (৫৫), হযরত আলী (৫০), মরম আলী (১৭), মনিজা খাতুন (৭), বরাত আলী (৩৫), মাছুম হোসেন (১১), আসমাইল হোসেন (৪৫), সিহাব উদ্দীন (১০), আব্দুল কাদের (৬০), আয়শা খাতুন (১২), কমেলা খাতুন (৪০), আকছেদ আলী (৫৫), ফাহিমা খাতুন (৫), রবিউল ইসলাম (৩০), কল্পনা খাতুন (৬),মাজেদা খাতুন (২৫), বেলাল হোসেন (১২), রোজিনা খাতুন (২৫), মীম ইসলাম (৬), শামীম আলী (১২), সনেকা খাতুন (৬০), জাহের আলী (৮০), হয়দার আলী (৫৫), ছানোয়ার হোসেন (৫৫), রবিউল হোসেন (১৬), রহিমা খাতুন (৪৫), অলিউলাহ (৯), রিপন হোসেন (২৫), ময়মন খাতুন (৪৫), জাকারিয়া (৮), মনিরুল ইসলাম (২৫), আম্বিয়া খাতুন (৪০), কেফাত আলী (৩৮), নবিরুল ইসলামসহ (৯) ৪০ জন। এদের সবাইকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গরুর মালিক আলী আহম্মেদের অবস্থা গুরুতর। তার চোখ-মুখ অস্বাভাবিক ফুলে গেছে। পুরো গ্রামে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় সকলের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আকছেদ আলী জানান, শুধু এই পাঁচটি গরুই নয়। এই গ্রামে আরো অনেক গরুর অসুস্থ হয়েছিল। তার মধ্যে পাঁচটি জবাই করা হয়েছে। আরো ১৮টি গরু মারা গেছে। এর মধ্যে তিনটি গরু মাটির নিচে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছে। বাকিগুলো মালিকরা খোলা স্থানে ফেলে দিয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা সুকুমার সুর রায় জানান, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। প্রথম দিনেই টিমটি ৪০ জনকে শনাক্ত করেছে। মেডিকেল টিমটি ওই গ্রামে পর্যবেক্ষণ অব্যহত রেখেছে।
রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আক্রন্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো ছোঁয়াছে রোগ নয়, বিধায় আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। ওষুধ সেবনে এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা সেরে ওঠবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার তিনটি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ওই মরা গরুর নমুনা সংগ্রহ করে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের আঞ্চলিক রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে পাঠানো হয়।
পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স রোগের জীবাণু নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর থেকে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ইনজেকশন দেয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অসুস্থ মরে যাওয়া গরুকে জবাই না করে মাটি চাপা দেয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন আগে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের ২১ জন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়। ইতিমধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী গ্রামের ১৫ জন আক্রান্ত হন। এ নিয়ে জেলায় মোট ৭৬ জন এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাদল ভৌমিক/এআরএ/পিআর