ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘তিনদিনের মধ্যেই তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন’

প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ১৮ মে ২০১৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের এখন অনেকটা গলদঘর্ম অবস্থা। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। এ নিয়ে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি ও ফরেনসিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতারও অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত না থাকা এবং অপর দিকে সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টের প্রোফাইলে তিন ধর্ষকের আলামত থাকায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন (হত্যা ধর্ষণের আলামত অস্পষ্ট) প্রকাশে ফরেনসিক বিভাগ আরো বেকায়দায় পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করলে তা পর্যালোচনা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে বলে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কেপি সাহা জানিয়েছেন।

এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিনের যেকোনো সময় কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তনুর ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধারের পর দিন কুমেক হাসপাতালে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেয়া ওই প্রতিবেদনে তাকে ‘হত্যা কিংবা ধর্ষণের’ কোনো আলামত উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবির) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে নির্দেশে গত ৩০ মার্চ তনুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পর দেহের বিভিন্ন অংশের ডিএনএ আলামত সংগ্রহ ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু এরপর প্রায় ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো প্রতিবেদন পেশ করেনি কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ।

কিন্তু গত সোমবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান তনুর অন্তর্বাস, কাপড় ও শরীরের গোপনাঙ্গের ডিএনএ প্রতিবেদনে তিন ব্যক্তির বীর্য পাওয়ার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করলে এ নিয়ে দেশব্যাপি তোলপাড় সৃষ্টি করে। এতে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ সেই ডিএনএ প্রোফাইলের জন্য আরো তৎপর হয়ে ওঠে।

কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সিআইডির নিকট লিখিতভাবে ওই ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে দ্বিতীয় দফায় চিঠি পাঠালেও বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিআইডি ডিএনএ প্রোফাইলের কপি সরবরাহ করেনি বলে জানা গেছে। তবে ওই ডিএনএ প্রতিবেদন পেলে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ (কেপি) সাহা।

বুধবার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রাসাদ সাহা সাংবাদিকদের জানান, ‘সিআইডির নিকট লিখিতভাবে ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়েছি, এর লিখিত কপি হাতে পেলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে।’

ডিএনএ প্রতিবেদন না পেলে আর কতোদিন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বিলম্ব হবে? এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গিয়ে জানান, ‘আমরা আশা করি সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদন আমাদেরকে দেবেই।’

ডিএএন প্রতিবেদন ছাড়াও তো মৃত্যু ও ধর্ষণের আলামত খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তনুর ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রতিবেদন আবশ্যক কেন হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. কেপি সাহা বলেন, ‘তনুর ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাকে হত্যার বিষয়ে হয়তো অনেক তথ্য খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে সিআইডির একটি সূত্র জানায়, তনুর ডিএনএ থেকে প্রাপ্ত তিন ব্যক্তির প্রোফাইল ম্যাচিং করতে শীর্ষ সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা ১০ দিনের মধ্যে আদালতের অনুমতির জন্য প্রেরণ করা হবে।

সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, ডিএনএ রিপোর্ট ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, এতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদানে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টটি সরবরাহের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মো. কামাল উদ্দিন/বিএ

আরও পড়ুন