ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

স্মরণসভায় বক্তারা

বেসরকারি খাতে উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেন খালেদা জিয়া

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলেই স্থাপিত হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএসই’র কর্মকর্তারা।

ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অৰ্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই স্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণের সূচনা হয়, তার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত অবদান তার প্রয়াণের পর আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তার প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা, যার অবদান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের ২ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় দশটি কোম্পানিকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি দেশের শিল্প ও করপোরেট খাতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতিও সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে অবিচল ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপসহীন ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি এ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি।

ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তার মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতি ও আবেগে। তার (খালেদা জিয়া) জানাজায় কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যার প্রতি ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথের মানুষের মধ্যেও গভীর শ্রদ্ধা ছিল। আমরা আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, সময়ের পরিক্রমায় তিনি যেন আমাদের সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। এমনটি মনে হয়, তার ব্যক্তিত্ব আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের গভীরে, আমাদের সামাজিক চেতনা ও অনুভূতির ভেতর গভীরভাবে মিশে গেছে।

তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে তার যেমন গুণ ছিল, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তবে বিগত কয়েক দিনে সারা দেশে তার প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে—সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাতিজা মো. শামস ইস্কান্দার সবার কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।

এমএএস/এমএমকে/জেআইএম