ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে: মোস্তাফিজুর রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে সংস্থাটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনি বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের দেশি–বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়ছে। জাতীয় বাজেটের প্রধান খাতে পরিণত হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। আর এই চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়তে পারে, এমন ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের বৈদেশিক ঋণ ও তার যে বোঝা এটা কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশীয় ঋণের বোঝাও বাড়ছে।

সিপিডির এই সম্মাননীয় ফেলো বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীতে যে বাজেটগুলো দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সবসময় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেনশন- এটা ছিল নাম্বার ওয়ান ও শিক্ষা ছিল দ্বিতীয় নম্বরে। এখন কিন্তু শিক্ষা চলে গেছে তৃতীয় অবস্থানে। দেশি-বিদেশি ঋণের সুদের পরিসেবার খরচ দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। এটা থেকে বোঝা যায় যে আমরা একটা ঋণ ফাঁদের দিকে পড়ে যেতে পারি।

তিনি বলেন, অনেক সময় আমাদের মতো দেশ যেগুলা লো ইনকাম কান্ট্রি থেকে লোয়ার মিডিল ইনকাম কান্ট্রি হয়েছে, তারা লোয়ার মিডিল ইনকাম ট্র্যাপে পড়ে যায়। অনেক দেশ লোয়ার মিডিল ইনকাম থেকে আপার মিডিল ইনকাম হয়- তখন আপার মিডিল ইনকাম ট্র্যাপে পড়ে যায়। যেটা লাতিন আমেরিকায় হয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলে কিন্তু বেশকিছু দেশ লোয়ার মিডিল ইনকাম ট্র্যাপে পড়েছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশে চাল উৎপাদনেও ঘাটতি নেই। চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণে দাম বেড়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি নির্বাচন–পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করে সিপিডি।

মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বেসরকারি বিনিয়োগ ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমে গেছে, সাম্প্রতিককালে এটি সর্বনিম্ন। বিদেশি বিনিয়োগও সর্বনিম্ন পর্যায়ে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। দেশের ব্যাংকব্যবস্থার উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাজ নির্বাচিত সরকারকেও চালিয়ে যেতে হবে।

ইএইচটি/ইএ/এএসএম