ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

‘দেশের পোশাক খাত এক বছর ধরে আইসিইউতে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের পোশাক খাত গত এক বছর ধরে আইসিইউতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, ‘টেক্সটাইল মিলসের মালিকরা বলেছেন তারা আইসিইউতে আছেন। গত এক বছর ধরে আমরাও বলে যাচ্ছি, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর আইসিইউতে আছে। আইসিইউ থেকে বের করার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। নীতি সহায়তা দিয়ে সেখান থেকে বের করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সেই জায়গাটিতে আমরা কী নীতি সহায়তা পাচ্ছি?’

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য হুমকি: পাট শিল্পের পরে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজওয়ান সেলিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক আবদুর রহিম, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন প্রমুখ।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘নতুন শ্রম আইন যেটি হয়েছে, এই আইনটিই যথেষ্ট, দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে দিতে। এরমধ্য দিয়ে দেশের পোশাক শিল্পের ধ্বংসের শুরুটা হয়ে গেছে।’

সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত শনিবার থেকেই যেদিন ওই চিঠিটার খবর আসে, সেদিন থেকেই লোকাল স্পিনিং মিলগুলো পিআই ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে। আবার প্রাইসও কিন্তু তারা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্পিনিং মিল করতে কতো টাকা বিনিয়োগ হয় সেটি পর্যালোচনা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে কতো টাকা বিনিয়োগ হয়, সেটি পর্যালোচানা করলেও বুঝতে পারবেনা, কেন উৎপাদন খরচ বেশি হয়।’

ক্রেতারা যাতে পোশাকের সঠিক দাম দেয় সে বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমি ইউরোপীয় ইউনয়নকে বলেছিলাম তোমার ব্র্যান্ড বায়াররা আন এথিক্যাল দাম দিয়ে আমার ইন্ড্রাস্ট্রি ধ্বংস করছে, এটি তোমরা বলবে না। বায়াররা কেন আমাদের পণ্যের দাম কম দিচ্ছে, সেটি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। সেই জায়গায় আমরা যদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়ে ফেলি তাহলে তো আমরা টিকে থাকবো না। এথিক্যাল প্রাইস নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এটি নিয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’

এদিকে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের সরকারি সুপারিশ অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে সরকার অনতিবিলম্বে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে। এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আমাদের শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

তিনি বলেন, এই একতরফা পদক্ষেপ সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তি এর ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, আমদানির ওপর এ জাতীয় কোনো রক্ষণশীল শুল্ক আরোপের আগে অবশ্যই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পে সিরিয়াস ইনজুরি এর বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এখানে এটা করা হয়নি। এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কেবল অনভিপ্রেতই নয় বরং নীতিগতভাবেও চরম প্রশ্নবিদ্ধ। সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি শিল্প, তথা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর।

ইএইচটি/এসএনআর